ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় ঘোষণা মমতা সরকারের, পাবেন সরকারি চাকরি!

Mamata Banerjee in West Bengal Government Sports Department

বাংলার অ্যাথলিটদের জন্য বড় সুখবর। রাজ্য ক্রীড়া দফতরের (West Bengal Sports Department) ঘোষণা অনুযায়ী, এই বছরের জাতীয় গেমসে (National Games) পদক (Medal) জিতলেই চাকরি দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) পক্ষ থেকে। এটি এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ, যা বাংলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। আর তাই, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা জাতীয় গেমস (National Games) নিয়ে বাংলার অ্যাথলিটরা (Bengal Athletics) বিশেষভাবে উজ্জীবিত।

মরসুমে অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ের অস্কারের ভরসার প্রথম একাদশ

   

এই বছরের জাতীয় গেমসটি অনুষ্ঠিত হবে উত্তরাখণ্ডে, যা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এক দিকে যেমন প্রতিযোগিতার উত্তেজনা বাড়ছে, তেমনই বাংলার অ্যাথলিটদের জন্য রাজ্য সরকারের এই ঘোষণা তাঁদের আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। পদকজয়ী অ্যাথলিটদের জন্য চাকরি সহ নগদ পুরস্কারের ঘোষণায়, তাঁদের অনুশীলন ও পরিশ্রমের পুরস্কৃত হওয়ার পথ সুগম হবে।

রাজ্য ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনো অ্যাথলিট যদি জাতীয় গেমসে সোনার পদক যেতেন, তাঁকে দেওয়া হবে এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদা, রুপো জেতার পর এএসআই (অসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদা, আর ব্রোঞ্জ জয়ী অ্যাথলিট পেয়ে যাবেন কনস্টেবল পদমর্যাদা। শুধু তাই নয়, সোনা জয়ী অ্যাথলিট পাবেন ৩ লক্ষ টাকা, রুপো জয়ী ২ লক্ষ টাকা, আর ব্রোঞ্জ জয়ী পাবেন ১ লাখ টাকা নগদ পুরস্কার। এটি নিঃসন্দেহে বাংলার ক্রীড়াবিশ্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

বছর ঘুরলেই বিশ্বকাপ, নতুন তকমা রোনাল্ডোর

এছাড়াও, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাংলার অ্যাথলিটদের কাছে আরও অনেক বড় সুবিধা এনে দেবে। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন যারা শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য ও চাকরির সুযোগ না পাওয়ার কারণে পেশাদার ক্রীড়া জীবন শুরু করতে পারেননি। এখন তাঁদের জন্য সরকারি চাকরি একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। এই পদক্ষেপটি বাংলার ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী ও উৎসাহিত করবে।

মানোলোর কাঁটা চেন্নাই, লক্ষ্য বাগানকে টক্কর

এটি শুধু একটি চাকরি প্রদান নয়, বরং বাংলার ক্রীড়ার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারেরও প্রতীক। বাংলায় ক্রীড়া ক্ষেত্রে বেশ কিছু বছর ধরেই উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এই ধরণের পদক্ষেপ সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। আমাদের রাজ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করছে। তবে তাঁদের জন্য যথাযথ সুযোগের অভাব ছিল। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদরা তাঁদের পরিশ্রমের সঠিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্তোষ ট্রফি ফুটবলে বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রাজ্য সরকার ফুটবলারদের জন্যও এক বিশেষ ঘোষণা করেছে। সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলা দলের ফুটবলারদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বিভাগে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। নবান্নে সন্তোষ জয়ী দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বাংলার খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে প্রতিভা দেখাচ্ছে। আমরা তাঁদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব।”

কেরালা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ভাগ্যের চাকা ঘোরাবে অস্কারের প্রিয় ছাত্র

এমনকি, গত বছরের নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও বাংলার অ্যাথলিটরা নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করেছে এবং পদকও জিতেছে। তাঁদের সংগ্রাম, পরিশ্রম ও নিষ্ঠা আরও সফল হতে পারে এখনকার এই সুবিধা ও পুরস্কারের মাধ্যমে। যে কোনো খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হয় তাঁর অর্জন এবং তাকে সেই অর্জনের পর উপযুক্ত সম্মান প্রদান করা। রাজ্য সরকারের এই নতুন ঘোষণা বাংলার ক্রীড়াবিদদের সঠিকভাবে সম্মানিত করবে এবং তাদের আগামীর প্রতিযোগিতায় আরও ভালো ফল করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।

সর্বোপরি, এই ঘোষণাটি শুধু বাংলার ক্রীড়াবিদদের জন্য নয়, পুরো রাজ্যের জন্য এক উৎসাহের বার্তা। এটি প্রমাণ করে, বাংলার ক্রীড়া ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, এবং এই পরিবর্তন আমাদের সমাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleমহাকুম্ভে ভাইরাল মোনালিসাকে এই সিনেমায় অভিনেত্রী হওয়ার প্রস্তাব
Next articleবিশ্বের সবচেয়ে বড় 5টি বোমা, যার একটি রয়েছে ভারতে
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।