ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) খেলতে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন আরও ধোঁয়াশা হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) টালবাহানার মধ্যেই প্রথম বার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘নিরাপত্তা’ প্রসঙ্গ।
শনিবার ফের প্রস্তুতি ম্যাচে নামছে সবুজ-মেরুন, প্রতিপক্ষ কারা?
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ শেষে মিরপুরে সাংবাদিক বৈঠকে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েন লিটন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিপিএল কতটা কার্যকর? প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি, “আপনি নিশ্চিত আমরা বিশ্বকাপ খেলব?”
লিটনের কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ। তিনি বলেন, “আমি তো এখনও অনিশ্চিত। বাকিরাও অনিশ্চিত। আমার মনে হয় গোটা দেশই এই মুহূর্তে অনিশ্চিত। কারও কাছেই কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। আমি বুঝতে পারছি আপনি কী প্রশ্ন করতে চলেছেন, কিন্তু এখন এই বিষয়ে উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে নিরাপদ নয়।”
বিশ্বকাপের সূচি ঘোষিত, গ্রুপ নির্ধারিত। বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ সি’তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপালের সঙ্গে। কলকাতা ও মুম্বইয়ে ম্যাচ হওয়ার কথা। অথচ সেই তথ্য যেন কাগজেই রয়ে গিয়েছে। বাস্তবে খেলোয়াড়দের কাছে তা এখনও অনিশ্চিত।
লিটন জানান, “যদি জানতাম গ্রুপে আমাদের প্রতিপক্ষ কারা বা কোন দেশে আমরা খেলতে যাচ্ছি, তাহলে প্রস্তুতি নেওয়া অনেক সহজ হত। এখনও পর্যন্ত কোনও খেলোয়াড়ই জানে না আমরা কোথায় খেলব বা কাদের বিরুদ্ধে খেলব। আমাদের মতো গোটা বাংলাদেশও দোলাচলে ভুগছে।”
ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। কিন্তু সেখানেও স্পষ্টতই অস্বস্তিতে লিটন। তিনি বারংবার একই কথা বলেন, “এটা বলা নিরাপদ নয়। একেবারেই নিরাপদ নয়। নো অ্যানসার।”
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া নিয়েও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, “জীবনে অনেক কিছুই ঠিকঠাক হয় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হয়।”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বিসিবির কেউ নাকি এখনও পর্যন্ত লিটনের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। অধিনায়কের এই মন্তব্যে বোর্ড ও দলের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেও বিপিএল যে আদর্শ নয়, সেটাও অকপটে স্বীকার করেছেন লিটন। টানা ম্যাচ খেলার ধকলের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা কোনও বিরতি ছাড়াই একটানা খেলছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের পর বিশ্রাম পাওয়া যায়, কিন্তু বিপিএলে সেই সুযোগ নেই। বিশেষ করে আমাদের রংপুর দল তো একের পর এক ম্যাচ খেলেছে।”
আইসিসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশকে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই চাপ বাড়ছে। একদিকে বিসিবির কড়া অবস্থান, অন্যদিকে খেলোয়াড়দের নীরবতা। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরের এই নাটক কোথায় গিয়ে শেষ হবে, সেই উত্তর এখনও অজানাই।
