কলকাতা ময়দানের আকাশে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। আচমকাই প্রয়াত হলেন ইউনাইটেড স্পোর্টস ও মোহনবাগানের প্রাক্তন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সুখেন দে। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৫ বছর। শুক্রবার কর্মস্থলে, ভারতীয় রেলে ডিউটি করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আগামী ১ জানুয়ারি ছিল তাঁর জন্মদিন, সেদিন ৩৬ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল সুখেনের। কিন্তু জন্মদিনের কয়েক দিন আগেই না-ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন এই জনপ্রিয় ফুটবলার।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে কাজে গিয়েছিলেন সুখেন। শরীরে কোনও অস্বস্তি ছিল না। হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতা ময়দান।
সুখেন দে’র পেশাদার ফুটবলজীবনের শুরু ইউনাইটেড স্পোর্টসে। ২০১১-১২ মরশুমে ইউনাইটেডের জার্সিতে আই লিগে অভিষেক হয় তাঁর। সাইড ব্যাক হিসেবে দাপুটে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গোল করার নজিরও ছিল তাঁর। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেই সুখেন নজর কাড়েন বড় দলগুলির।
২০১৪-১৫ মরশুমে মোহনবাগানে যোগ দিয়ে প্রথম মরশুমেই ভারতসেরা হওয়ার স্বাদ পান তিনি। সঞ্জয় সেনের প্রশিক্ষণে আই লিগ জয়ী সেই ঐতিহাসিক মোহনবাগান দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন সুখেন। গোটা মরশুম জুড়ে রক্ষণ সামলানোর বড় দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। বিশেষ করে স্পোর্টিং ক্লাব ডি গোয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রতিপক্ষের তারকা স্ট্রাইকার ওডাফা ওকোলিকে যেভাবে আটকে রেখেছিলেন, তা আজও মোহনবাগান সমর্থকদের মুখে মুখে ফেরে।
সুখেনের অকাল প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। আইএফএ (ifa.wb) তরফে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেও এই দুঃসংবাদের কথা জানানো হয়েছে। বছরের শেষ সপ্তাহে ময়দানের এক প্রাক্তন ফুটবলারের এমন আকস্মিক মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই।
ইউনাইটেড স্পোর্টসের কর্মকর্তা নবাব ভট্টাচার্য সোশাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, সুখেনের পরিবারে বাবা-মা, স্ত্রী এবং ছয় বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলার ফুটবল মহল।
মাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামাতে যিনি ছিলেন অবিচল প্রাচীর, জীবনের দৌড়ে সেই সুখেন দে হৃদরোগের আক্রমণকে থামাতে পারলেন না। অল্প বয়সে তাঁর চলে যাওয়ায় এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল বাংলা ফুটবলে।


