Qatar WC: এবারের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের অভিনবত্বের কয়েকটি দিক তুলে ধরা হল !

20

প্রতি বিশ্বকাপেই কিছু অভিনবত্ব থাকে । কাতার বিশ্বকাপেও কিছু এমন ঘটনা আছে, যা এবারই প্রথম ঘটছে। আসুন দেখে নিই, কী কী অভিনব ঘটনা ঘটছে বা ঘটতে চলেছে এই বিশ্বকাপে৷

১,মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ :

কাতারই মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ, যারা ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, আরব বিশ্বেও কাতারই প্রথম৷ এশিয়ায় অবশ্য এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। প্রথমবার হয়েছিল ২০০২ সালে, যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে৷

২. প্রথম মহিলা রেফারি :

এবারই প্রথম ছেলেদের বিশ্বকাপে মহিলা রেফারি ম্যাচ পরিচালনা করবেন। ৬৪টি ম্যাচের জন্য মোট ৩৬ জন প্রধান রেফারির নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। এর মধ্যে মহিলা আছেন তিনজন৷ ছেলেদের বিশ্বকাপে রেফারিং করতে যাওয়া এই রেফারিরা হচ্ছেন জাপানের ইয়োশিমি ইয়ামাশিতা, ফ্রান্সের স্টিফানি ফ্রপার্ট ও রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা। এ তিনজনের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ব্রাজিলের নিউজা বেক, মেক্সিকোর ক্যারেন ডিয়াজ মেডিনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথরিন নেসবিট।

৩. দূষণমুক্ত বিশ্বকাপ : 

দূষণমুক্ত বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা করেছিল কাতারের সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি। এ জন্য যাতায়াতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাসের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রিক বাসগুলো ৪৪টি মেট্রো লিংক এবং ৪৮টি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট রুটে চালানো হবে।

৪. ফুটবলারদের জন্য ডেটা অ্যাপ : 

ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের আরও নিখুঁত তথ্য পেতে চালু করা হয়েছে ডেটা অ্যাপ। ৩২টি দলের প্রতিটি ফুটবলার ম্যাচের পর নিজের খেলা সম্পর্কিত তথ্যগুলো দেখতে পারবেন। ডেটার মধ্যে থাকবে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ কোন মুহূর্তে তিনি কেমন খেলেছেন, বল পায়ে কেমন ছিলেন, কতটুকু কী প্রচেষ্টা ছিল৷ এই অ্যাপটি প্রসঙ্গে ফিফার ফুটবল টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ডিরেক্টর জোহানেস হোলস মুলার বলেছেন, ‘মাঠের যারা মূল কারিগর, তাদের জন্য সম্ভাব্য সেরা প্রযুক্তির ব্যবস্থা করেছে ফিফা।’

৫. বলের মধ্যে প্রযুক্তি : 

কাতার বিশ্বকাপে খেলা হবে অ্যাডিডাসের তৈরি বল ‘আল রিহলা’। বাংলায় যার অর্থ ‘ভ্রমণ’। চামড়ার তৈরি বলটিতে আছে প্রযুক্তির ছোঁয়া৷ বলের নিখুঁত গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এর ভেতরে ৫০০ হার্জ আইএমইউ সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যে তথ্য ব্যবহার করে নিখুঁত সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রযুক্তিসম্পন্ন বল ব্যবহার করা হচ্ছে এবারই প্রথম।

৬. সেমি-অটো অফসাইড ট্র্যাকার : 

২০১৮ বিশ্বকাপে ভিএআর বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল৷ কাতারে অফসাইডের সিদ্ধান্ত হবে আরও নিখুঁত। গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং ফিফা আরব কাপে সেমি-অটো অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল৷ তবে বিশ্বকাপ ফুটবলে এই প্রথম৷ চালু হচ্ছে সেমি অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি৷ প্রতিটি স্টেডিয়ামের ছাদের নিচের অংশে ১২টি ট্র্যাকিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোনও খেলোয়াড় অফসাইড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে অফসাইড সংকেত চলে যাবে।

৭. শীতকালে এবার প্রথম বিশ্বকাপ :

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগের সব আসরই অনুষ্ঠিত হয়েছিল জুন- জুলাইয়ে। এবার প্রথম নজিরবিহীনভাবে বিশ্বকাপ হচ্ছে নভেম্বর- ডিসেম্বরে। কাতারের গরম আবহাওয়ার কারণেই ফিফার এই সিদ্ধান্ত৷ ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহাম,

৮.সব স্টেডিয়াম প্রায় একই জায়গায় : 

মাত্র ৫৫ কিলোমিটার জায়গার মধ্যে আটটি স্টেডিয়ামের অবস্থান। ভৌগোলিকভাবে এটিই সবচেয়ে কম জায়গার মধ্যে হতে চলা বিশ্বকাপ৷ বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কখনো এত অল্প জায়গার মধ্যে সব ভেন্যু ছিল না।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)