টার্গেটে প্ৰাক্তন দল KKR! ম্যাচের আগেই আইসিসির বিশেষ তকমা শ্রেয়াসকে

Shreyas Iyer Punjab Kings
Shreyas Iyer Smashes 97* off 42 Balls to Power Punjab Kings to Massive IPL 2025 Win

১৫ এপ্রিল পঞ্জাব জার্সিতে প্রাক্তন দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে নামতে চলেছেন শ্রেয়াস আইয়ার (Shreyas Iyer)। এই ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই আইসিসির বিশেষ পুরস্কার পেলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্রেয়াস আইয়ার মার্চ মাসের জন্য ‘আইসিসি মেন’স প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। এই সম্মান তাঁর জন্য শুধুমাত্র এক ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের গৌরবময় যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্রেয়াসের অসাধারণ পারফরম্যান্স, মিডিল অর্ডারে দলের ইনিংসকে সামলানোর ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য অবদান তাঁকে এই সম্মানের যোগ্য প্রার্থী করে তুলেছে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রেয়াস ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। পাঁচটি ম্যাচে তিনি ২৪৩ রান করেন গড়ে ৪৮, যার মধ্যে ছিল দুটি অর্ধ-শতরান। তাঁর এই পারফরম্যান্স নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি এবং রাচিন রবীন্দ্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাপিয়ে যায়। শ্রেয়াসের খেলার ধরন, মাঝের ওভারে ইনিংসকে স্থিতিশীল করার কৌশল এবং গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার ক্ষমতা ভারতের জয়ের পথে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

   

আইসিসি’র এক বিবৃতিতে শ্রেয়াস বলেন, “মার্চ মাসের জন্য আইসিসি মেন’স প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই সম্মানিত। এই পুরস্কারটি আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ, বিশেষ করে এমন একটি মাসে যখন আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি—এই মুহূর্তটি আমি চিরকাল মনে রাখব। এমন বড় মঞ্চে ভারতের সাফল্যে অবদান রাখতে পারা প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন। আমি আমার সতীর্থ, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞ। আমাদের ভক্তদের প্রতিও আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—আপনাদের উৎসাহ এবং শক্তি আমাদের প্রতি পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।”

শ্রেয়াসের এই অর্জন ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য আরও গর্বের বিষয় কারণ এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে শুভমন গিল এই পুরস্কার জিতেছিলেন। টানা দুই মাস ভারতীয় ক্রিকেটারদের এই পুরস্কার জয় দেশের ক্রিকেটীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

মার্চ মাসে শ্রেয়াস তিনটি ম্যাচে ১৭২ রান করেন, গড়ে ৫৭.৩৩, স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৭.৪৭। তাঁর ব্যাটিংয়ের মধ্যে ছিল কিছু অসাধারণ ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ এ-র একটি ম্যাচে তিনি ৯৮ বলে ৭৯ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৪টি চার এবং ২টি ছক্কা। এই ইনিংসটি ভারতকে একটি চ্যালেঞ্জিং পিচে ২৫০ রানের প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়তে সাহায্য করে। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিনি ৬২ বলে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা ভারতের জয়ী রান তাড়ায় সহায়ক ছিল। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ৬২ বলে ৪৮ রানের ক্লিনিকাল ইনিংস ভারতের শিরোপা জয় নিশ্চিত করে।

শ্রেয়াসের খেলার শৈলী তাঁকে অনন্য করে তোলে। তিনি মাঝের ওভারে ইনিংসকে সামলানোর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় আক্রমণাত্মক শট খেলতেও পারেন। তাঁর টেকনিক এবং মানসিক দৃঢ়তা তাঁকে ভারতীয় মিডল অর্ডারের একজন নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ করে তুলেছে। তাঁর এই পুরস্কার জয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরও একটি ইঙ্গিত।

শ্রেয়াসের এই সাফল্য তাঁর কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের ফল। তাঁর এই অর্জন ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন ধরে গেঁথে থাকবে। তিনি যেমন বলেছেন, ভক্তদের সমর্থন তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। শ্রেয়াসের এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের গৌরবময় অধ্যায়ে একটি নতুন পালক যোগ করেছে।

এই পুরস্কার শ্রেয়াসের ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক হলেও, তাঁর যাত্রা এখানেই শেষ নয়। তাঁর প্রতিভা এবং সম্ভাবনা ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ভক্তরা আশাবাদী। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় এবং আইসিসি পুরস্কার শ্রেয়াসের জন্য শুধু শুরু, ভবিষ্যতে তিনি আরও অনেক কৃতিত্ব অর্জন করবেন, এটাই ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleEMI কমাতে চান? এই ৫টি গোপন কৌশল আজই জেনে নিন
Next articleস্বপ্নভঙ্গ বাগান ব্রিগেডের বিপক্ষে, সুপার কাপে এই পরিকল্পনায় জামিলের দল
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।