
লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুরে’ কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্তে এবার বড় পদক্ষেপ করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। শুক্রবার সকালে এই ঘটনার মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের রিষড়ার বাড়িতে হানা দিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি যুবভারতী কাণ্ডে আজ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শতদ্রুর বাড়িতে তল্লাশি
শুক্রবার সকালে হুগলি জেলার রিষড়া থানার অন্তর্গত বাঙুর পার্কে শতদ্রু দত্তের তিনতলা বিলাসবহুল বাড়িতে পৌঁছায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট পাঁচজন আধিকারিক এই অভিযানে অংশ নেন। স্থানীয় রিষড়া থানার সহযোগিতায় পুলিশ ওই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। জানা গেছে, তল্লাশির সময় শতদ্রুর স্ত্রী বা সন্তান বাড়িতে ছিলেন না, কেবল পরিচারিকা উপস্থিত ছিলেন। ফুটবল মাঠ এবং সুইমিং পুল সমৃদ্ধ ওই বিশালাকার বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন আধিকারিকরা।
পুলিশের নজরে ১০টি ধারা satadru dutta house raid
মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮টি ধারা ছাড়াও এমপিও (MPO) আইন এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। মোট ১০টি ধারায় এই তদন্ত চলছে। পুলিশের অভিযোগ, আয়োজকদের চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি কাজে বাধা এবং বড় ধরনের জনরোষ তৈরি হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হওয়া শতদ্রু দত্ত বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
শোকজ ও তদন্ত কমিটি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, বিধাননগরের সিপি মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে শোকজ করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে মেসির ‘গোট ট্যুর’ (GOAT Tour) ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ। মাঠের ভেতর মন্ত্রী ও ভিআইপি-দের হুড়োহুড়িতে মেসিকে প্রায় ঘিরে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে দর্শকরা গ্যালারির বাকেট সিট ভেঙে মাঠে ছুঁড়তে শুরু করেন, এমনকি ভিআইপি চেয়ারেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।





