প্রশ্ন শুনেই রেগে আগুন রোহিত! এমন কী প্রশ্ন করলেন সাংবাদিক

Rohit Shrama and India First XI against Australia in Boxing Day Test

বিসিসিআই তথা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) টিম ইন্ডিয়ার (India Cricket Team) সদস্যদের জন্য ১০টি নতুন নির্দেশিকা (BCCI New Rules) জারি করতে পারে এমনই তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে সর্বত্র। যা ক্রিকেটারদের জীবনযাত্রা এবং দলের শৃঙ্খলাকে আরও সুসংহত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেছেন বেশ কয়েকজন প্ৰাক্তন ক্রিকেটার। তবে এই নির্দেশিকাগুলি নিয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) এবং নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

বিসিসিআইয়ের নতুন ১০ নির্দেশিকা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন তুলেছিলেন এক সাংবাদিক। প্রশ্ন ছিল, বোর্ডের নতুন ১০টি নির্দেশিকা সম্পর্কে রোহিত শর্মার মতামত। রোহিত শর্মা সপ্রতিভ হয়ে সাংবাদিককে বলেন, “কে আপনাকে বলেছে এই নিয়ম নিয়ে? এর জন্য বোর্ড অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়েছে? আগে সেটা আসুক, তারপর আমরা আলোচনা করব।” রোহিতের এই প্রতিক্রিয়া বোর্ডের নতুন নিয়মগুলো সম্পর্কে তার অবস্থান স্পষ্ট করে তোলে।

   

অন্যদিকে, নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই নতুন নিয়মগুলি কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের জন্য শাস্তি নয়। তিনি বলেন, “এটা কোনো স্কুল নয়, বরং নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়।” অজিত আগরকর আরও উল্লেখ করেন যে, দলে কিছু বদল প্রয়োজন ছিল, এবং দলের শৃঙ্খলা এবং সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য এই নিয়মগুলি জরুরি ছিল।

নতুন নির্দেশিকা কি কি?

১. ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক: জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য এবং সেন্ট্রাল কন্ট্র্যাক্টে যোগ্য হতে হলে খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে, ক্রিকেটাররা ফিটনেস বজায় রাখে এবং নিয়মিত খেলা চালিয়ে যায়।

২. সফর চলাকালীন পরিবারের সঙ্গে আলাদা ভ্রমণ নিষেধ: ক্রিকেটাররা এখন থেকে সফরের সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে ভ্রমণ করতে পারবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমতি নিতে হবে।

৩. বাড়তি মালপত্র বহন করা নিষেধ: সফরে গিয়ে পাচঁটির বেশি ব্যাগ নেওয়া যাবে না, যেখানে দুটি ব্যাগ ক্রিকেট সরঞ্জামের জন্য এবং তিনটি ব্যাগ ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

৪. অতিরিক্ত ব্যাগের খরচ নিজের টাকা দিয়ে বহন করতে হবে: যদি কোনো ক্রিকেটার অতিরিক্ত ব্যাগ নিয়ে যেতে চান, তবে তার খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে।

৫. ব্যক্তিগত সহকারী নিয়ে সফর করা নিষিদ্ধ: ক্রিকেটাররা তাদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সহকারী নিতে পারবেন না। এর ফলে বোর্ডের আর্থিক দায় কমবে এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।

৬. অনুশীলনে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক: সিরিজ চলাকালীন অনুশীলনে অংশগ্রহণ করা সকল খেলোয়াড়ের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

৭. শুটিং বা বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ: সিরিজের সময় কোনো ক্রিকেটারের বিজ্ঞাপনের শুটিং বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কাজ করার অনুমতি থাকবে না।

৮. পরিবারের সদস্যরা পুরো সফরে থাকতে পারবেন না: বিদেশ সফরের সময় ক্রিকেটারদের পরিবারের সদস্যরা শুধুমাত্র ১৫ দিন সঙ্গে থাকতে পারবেন। এরপর খরচ তাদের নিজেদের বহন করতে হবে।

৯. বিসিসিআইয়ের কাজে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: বোর্ডের কোনো অনুষ্ঠানে বা প্রচারে অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে বোর্ডের অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়া নিশ্চিত হবে।

১০. দলের সঙ্গে পুরো সফর করতে হবে: কোনো ব্যক্তিগত জরুরি কারণে ছাড়া ক্রিকেটারদের পুরো সফর দলের সঙ্গে থাকতে হবে। এর ফলে দলীয় ঐক্য ও একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব বজায় থাকবে।

এই নতুন নির্দেশিকাগুলির উদ্দেশ্য দলের শৃঙ্খলা বৃদ্ধি এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। বোর্ডের মতে, এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং একটি উপযুক্ত পেশাদারী পরিবেশ তৈরি করার জন্য। তবে অনেকেই এই নিয়মগুলির কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারকে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে। সমালোচনার মাঝেও বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরী হবে তা সময়ই বলবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleধুন্ধুমার মোহনবাগান তাঁবুতে? উঠল নির্বাচনের দাবি
Next articleসাত মাস পর মহাকাশে সুনিতা উইলিয়ামসের স্পেসওয়াক, ভিডিও শেয়ার করল নাসা
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।