আই-লিগ ২০২৫-এর (I-League 2025) জয়পুরে নিজেদের প্রথম প্রচারণ শেষ করল রাজস্থান ইউনাইটেড এফসি। শুক্রবার বিদ্যাধর নগর স্টেডিয়ামে তারা দিল্লি এফসি-কে ৩-১ গোলে পরাজিত করে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচে রাজস্থানের হয়ে গোল করেছেন মাইকল কাব্রেরা (৫২’) এবং মারতান্ড রায়না (৮৪’), যখন দিল্লির অধিনায়ক ভিক্টর কামহুকার (৪৫+৪’) আত্মঘাতী গোলটি দিয়েছেন। দিল্লির পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন তরুণ হৃদয় জৈন (৬৭’)। এই হারের ফলে শিরোপার দৌড়ে ইন্টার কাশীর সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে, যারা এখন চাপে পড়েছে।
I-League 2025 ম্যাচের বিবরণ
প্রথমার্ধে রাজস্থান ইউনাইটেড আধিপত্য বিস্তার করে খেলা শুরু করে। দলের অধিনায়ক আলাইন ওয়ারজুন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন। এই স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের দুটি শক্তিশালী ভলি গোললাইনে বাধা পায়—প্রথমটি দিল্লির অধিনায়ক ভিক্টর কামহুকা ব্লক করেন, এবং দ্বিতীয়টি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৪৩তম মিনিটে মারতান্ড রায়না একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করলেও, সহকারী রেফারি এটি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন। এক মিনিট পরে, উরুগুয়ের মাইকল কাব্রেরা দূর থেকে শট নেন, যা দিল্লির গোলরক্ষক লালমুয়ানসাঙ্গা বাঁচিয়ে দেন।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে রাজস্থান ভাগ্যের সাহায্যে এগিয়ে যায়। কিরগিজ মিডফিল্ডার বেকতুর আমানগেলদিয়েভ বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, যা কামহুকার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে রাজস্থান ১-০ তে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাব্রেরা দলের লিড দ্বিগুণ করেন। ৫২তম মিনিটে তিনি গোলরক্ষক লালমুয়ানসাঙ্গার উপর দিয়ে বল চিপ করে দুর্দান্ত গোল করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দিল্লি মরিয়া হয়ে আক্রমণে যায়। ৬৬তম মিনিটে গোগোমসার গোয়ারি একটি সুযোগ পান, কিন্তু তার শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটেই দিল্লি ব্যবধান কমায়। ক্যামেরুনের জুনিয়র এনকেঙ্গের শট রাজস্থানের গোলরক্ষক জেমস কিথান আটকানোর চেষ্টা করলেও বল হৃদয় জৈনের কাছে চলে যায়। এই তরুণ খেলোয়াড় কাছ থেকে জোরালো শটে গোল করে দিল্লিকে ২-১-এ ফেরান। এটি তার মরসুমের চতুর্থ গোল।
৮১তম মিনিটে দিল্লি আবার গোল করলেও তা বাতিল হয়। জেস্টিন জর্জের লম্বা থ্রো-ইন সরাসরি জালে ঢুকে যায়, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী থ্রো-ইন থেকে গোল গণ্য হয় না। রেফারি গোলকিকের সিদ্ধান্ত দেন। তবে, ৮৪তম মিনিটে রাজস্থান ম্যাচে শেষ পেরেক ঠোকে। ওয়ারজুনের নিখুঁত ক্রসে মারতান্ড রায়না হেড করে ৩-১ গোলে দলকে জয় নিশ্চিত করেন।
রাজস্থানের ঘরের মাঠে দাপট
এই জয়ের সঙ্গে রাজস্থান ইউনাইটেড জয়পুরে তাদের প্রথম আই-লিগ প্রচারণ শেষ করল। ঘরের মাঠে তারা মোট ১১টি ম্যাচ খেলে ৬টি জয়, ৩টি ড্র এবং ২টি হারের রেকর্ড গড়েছে। ২১ ম্যাচ শেষে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে রেলিগেশন নিশ্চিত হওয়া দিল্লি এফসি এই মরসুমে ১৪তম হারের মুখ দেখল। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগের তলানিতে থাকবে।
ইন্টার কাশীর শিরোপা স্বপ্নে ধাক্কা
রাজস্থানের এই জয় ইন্টার কাশীর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। লিগের শীর্ষে থাকা দলগুলির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল ইন্টার কাশীর কাছে, কিন্তু দিল্লির এই হার তাদের পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করেছে। রাজস্থানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স লিগের প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স
রাজস্থানের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন মাইকল কাব্রেরা এবং মারতান্ড রায়না। কাব্রেরার দ্বিতীয়ার্ধের গোল দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়, আর রায়নার শেষ মুহূর্তের হেডার জয় নিশ্চিত করে। অধিনায়ক ওয়ারজুনের নেতৃত্ব এবং ক্রস প্রদানের দক্ষতা ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দিল্লির পক্ষে হৃদয় জৈনের গোল তাদের একমাত্র সান্ত্বনা। তবে, ভিক্টর কামহুকার আত্মঘাতী গোল দলের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
রাজস্থান ইউনাইটেডের সমর্থকরা এই জয়ে উচ্ছ্বসিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন সমর্থক লিখেছেন, “ডেজার্ট ওয়ারিয়র্স ঘরের মাঠে দুর্দান্ত খেলেছে। এই ফর্ম বজায় থাকলে আমরা শীর্ষে পৌঁছতে পারি।” দিল্লির সমর্থকরা হতাশ হলেও হৃদয় জৈনের পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের আশা দেখছেন।
লিগের প্রেক্ষাপট
আই-লিগ ২০২৫-এর এই পর্যায়ে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। রাজস্থানের এই জয় তাদের পঞ্চম স্থানে রাখলেও শীর্ষ দলগুলির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। দিল্লির জন্য এই মরসুম হতাশার হলেও, তরুণ খেলোয়াড়দের উত্থান ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো। ইন্টার কাশীর শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা এখন অন্য দলগুলির ফলাফলের উপর নির্ভর করছে।
রাজস্থান ইউনাইটেডের এই জয় জয়পুরে তাদের প্রথম প্রচারণকে স্মরণীয় করে তুলেছে। দিল্লির বিরুদ্ধে ৩-১ গোলের এই জয় শুধু তাদের পয়েন্ট বাড়ায়নি, বরং ইন্টার কাশীর শিরোপা স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আই-লিগের বাকি ম্যাচগুলিতে রাজস্থানের এই ফর্ম বজায় থাকলে তারা শীর্ষে পৌঁছানোর দাবিদার হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, দিল্লির জন্য এই মরসুম শেষ হলেও, পরবর্তী মরসুমে ফিরে আসার প্রত্যয় নিয়ে তাদের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।