
আইপিএল নিলামে (IPL 2026) ইতিহাস গড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শাহরুখ খানের দল ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পুরো মরশুমে কি মুস্তাফিজুরকে পাওয়া যাবে কেকেআরের হয়ে?
মিনি নিলামের পর KKR শিবিরে ঝড়! রাহানে নয় নাইটদের নেতৃত্ব দেবেন এই ক্রিকেটার?
কারণ, আইপিএলের মাঝপথেই রয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। এপ্রিল মাসে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে থাকছে এক দিনের ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। মুস্তাফিজুর এক দিনের দলে নিয়মিত না থাকলেও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের অন্যতম ভরসা তিনি। ফলে জাতীয় দলে ডাক পেলে আইপিএলের মাঝেই কয়েক দিনের জন্য তাঁকে ছেড়ে দিতে হতে পারে কেকেআরকে।
আইপিএল চলবে ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। বাংলাদেশ-নিউ জিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ হতে পারে ১৬ থেকে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে। এই সময় যদি মুস্তাফিজুরকে ডাকা হয়, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কেকেআরের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আইপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারের জন্য এটাই সর্বোচ্চ দর। আগামী আইপিএলে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবেই রয়েছেন মুস্তাফিজুর। তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন বা তানজিম হাসান শাকিব নিলামে দল পাননি।
এ বারই প্রথম কেকেআরের জার্সিতে খেলতে নামবেন মুস্তাফিজুর। নিলামে তাঁকে পেতে কেকেআরকে লড়াই করতে হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে। দু’টি দলের হয়ে অতীতে খেলেছেন বাঁহাতি এই পেসার। আইপিএলে তাঁর প্রমাণিত সাফল্যই কেকেআরের ভরসার জায়গা।
২০১৬ সালে আইপিএলে অভিষেকের বছরেই ‘সেরা উঠতি ক্রিকেটার’র পুরস্কার জিতেছিলেন মুস্তাফিজুর। এখনও পর্যন্ত আইপিএলে ৬০ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৬৫টি উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৩০৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৮৭টি উইকেট।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই, জাতীয় দলের ডাকে মাঝপথে ছিটকে গেলে কি কেকেআরের ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বাজি ঝুঁকির মুখে পড়বে? নাকি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরো মরসুম জুড়েই কলকাতার জার্সিতে আগুন ঝরাবেন মুস্তাফিজুর? উত্তর দেবে সময়ই।










