HomeSports Newsমুম্বই শিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল? বাগযুদ্ধে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কোচ বনাম ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’

মুম্বই শিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল? বাগযুদ্ধে শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি কোচ বনাম ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’

- Advertisement -

শুক্রবার একানা স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ডাগআউটে উত্তেজনার কমতি ছিল না। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। দলের তরুণ ব্যাটসম্যান তিলক ভার্মাকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করার সময় রিটায়ার্ড আউট করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিলেন মুম্বইয়ের (Mumbai Indians) প্রধান কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে, যিনি পরে সূর্যকুমারকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দেন।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে পরিস্থিতি একটু অস্বাভাবিক। কারণ ভারতীয় দলের বর্তমান দুই অধিনায়ক ওডিআই ও টেস্টে রোহিত শর্মা এবং টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদব—হার্দিক পান্ডিয়ার অধীনে খেলছেন। যিনি কোনও ফরম্যাটে সহ-অধিনায়কও নন। এটি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তারা যা দলের জন্য সঠিক মনে করে, তাই করে। ২০১৩ সালে মাঝ মরসুমে রোহিত শর্মাকে অধিনায়ক করতে তারা দ্বিধা করেনি, গত বছর রোহিতকে সরিয়ে হার্দিককে নিয়োগ দিতেও পিছপা হয়নি। এবার তিলক ভার্মাকে রিটায়ার্ড আউট করার সিদ্ধান্তেও তারা সাহস দেখিয়েছে।

   

এই সিদ্ধান্তগুলো সবসময়ই সমালোচনার মুখে পড়েছে। রোহিতের অপসারণ ও হার্দিকের নিয়োগে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। তিলকের রিটায়ার্ড আউট নিয়ে তেমন বড় বিতর্ক না হলেও, এটি অবশ্যই সমালোচনা ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এবং মহম্মদ কাইফ তিলককে ফিরিয়ে মিচেল স্যান্টনারকে পাঠানোর কোনও যুক্তি খুঁজে পাননি, যিনি ছক্কা মারার জন্য বিখ্যাত নন।

সূর্যকুমারের অসন্তোষ

ম্যাচের শেষ ১২ বলে মুম্বইয়ের প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। তিলক ও হার্দিক মাঠে ছিলেন। লখনউয়ের শার্দুল ঠাকুর ইয়র্কার ও লো ফুলটস দিয়ে দুজনকেই আটকে রাখেন। ১৯তম ওভারে তারা মাত্র পাঁচটি সিঙ্গল তুলতে পারেন—তিলক দুটি এবং হার্দিক তিনটি। তারপরই ঘটে নাটকীয় মুহূর্ত। ওভারের শেষ বলে স্ট্রাইক নেওয়ার বদলে তিলক প্যাভিলিয়নে ফিরতে শুরু করেন, আর মাঠে আসেন স্যান্টনার। ধারাভাষ্যকাররা জানান, ২৩ বলে ২৫ রান করা তিলক (মাত্র দুটি বাউন্ডারি) রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন।

ডাগআউটে বসা সূর্যকুমার এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে যান। তিনি ছোটখাটো প্রতিবাদ জানান। মাহেলা জয়বর্ধনে তখন তার কাছে গিয়ে সিদ্ধান্তের কারণ বোঝানোর চেষ্টা করেন। সূর্য আর কিছু বলেননি, তবে ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মোটেও সন্তুষ্ট মনে হননি। উল্লেখ্য, সূর্য তিলকের বড় ভক্ত। তিলকের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির পর সূর্য ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে নিজের ৩ নম্বর পজিশন তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সূর্যর অসন্তোষের কারণ স্পষ্ট। তিনি মাঠে থাকাকালীন মুম্বইয়ের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। ১৭তম ওভারে আবেশ খানের বলে স্কুপ করতে গিয়ে আউট হওয়ার আগে তিনি ৪৩ বলে ৬৭ রান করেন। তার আউটের পরই ম্যাচ লখনউয়ের দিকে ঝুঁকে যায়। শেষ পর্যন্ত মুম্বই ১২ রানে হেরে যায়।

জয়বর্ধনের ব্যাখ্যা

ম্যাচের পর জয়বর্ধনে সাংবাদিকদের বলেন, তিলককে ফিরিয়ে স্যান্টনারকে পাঠানো তারই সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, “তিলক আমাদের জন্য ভালো ব্যাট করেছিল যখন উইকেট পড়ে। সূর্যর সঙ্গে তার জুটি হয়েছিল। কিন্তু তারপর সে গতি পায়নি। আমি শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম, আশা করেছিলাম সে সময় কাটানোর পর বড় শট খেলবে। কিন্তু সে সংগ্রাম করছিল। তখন আমার মনে হল, একজন ফ্রেশ ব্যাটসম্যান দরকার। এটা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু কৌশলগতভাবে এটা করতে হয়েছে।”

এই ঘটনা আইপিএলে মুম্বইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিলকের জায়গায় স্যান্টনারকে পাঠানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে সূর্যকুমারের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দলের ভিতরেও সবাইকে খুশি করেনি।

- Advertisement -
Subhasish Ghosh
Subhasish Ghoshhttps://kolkata24x7.in/author/sports-news-desk
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক। ২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular