লক্ষ্য জয়ের ধারা বজায়, তবুও জামশেদপুরকে নিয়ে কেন সতর্ক মোলিনা

Mohun Bagan SG discussing with coach Jose Molina

ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) মঞ্চে আগামী ১৭ জানুয়ারি জামশেদপুরের (Jamshedpur) জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে জামশেদপুর এফসির (Jamshedpur FC) বিরুদ্ধে মাঠে নামবে হোসে মোলিনার ছাত্ররা (Jose Molina)। মরসুমের প্রথম পর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে জামশেদপুরকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan SG)। তবে আসন্ন ম্যাচে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে লিগ শীর্ষে থাকা বাগান ব্রিগেডকে।

বর্তমানে খালিদ জামিলের জামশেদপুর এফসি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর এই ম্যাচে নামবে ইস্পাত নগরীর এই দল। জামশেদপুরের এই নতুন শক্তির কথা স্বীকার করে মোহনবাগান কোচ হোসে মোলিনা জানিয়েছেন, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে এবং তারা সহজেই জয় লাভ করতে পারবে না।

   

মোলিনার প্রস্তুতি :

মোলিনা সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমি সবসময় বলি, আইএসএলের কোনো ম্যাচই সহজ নয় এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত নয়। জামশেদপুর এখন ভালো ফর্মে রয়েছে। তারা তাদের শেষ ম্যাচটি জিতেছে এবং সামগ্রিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে জেতা সত্যিই কঠিন ছিল, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। এবার আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে, বিশেষ করে তাদের মাঠে।”

বাগান কোচ আরও যোগ করেন, “তারা এই মরসুমে দুর্দান্ত খেলছে এবং তাদের ঘরের মাঠে তারা আরও শক্তিশালী। তারা একমাত্র একটি ম্যাচ হারেছে, বাকিগুলো তারা জিতেছে। আমরাজানি যে, এটি কঠিন একটি ম্যাচ হবে। কিন্তু আমি সবসময় আমার দল এবং তাদের কাজের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি আশা করি আমরা জয় পাব এবং তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরব। জামশেদপুর ও আমাদের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত রেকর্ড আছে। তাদের মাঠে শক্তিশালী দল হতে পারে, তবে আমি মনে করি, সেই স্টেডিয়ামের সাথে সম্পর্কিত কিছু বিশেষ বিষয় নেই।”

গোল করার ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন :

এছাড়া, মোহনবাগানের সাম্প্রতিক ম্যাচে গোলের সংখ্যা কম হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, মোলিনা বলেন, “আমি চাই আমার দল আরও উন্নতি করুক, বিশেষ করে গোল করার ক্ষেত্রে। তবে আমি আমার দলের পারফরম্যান্সে খুশি। আমাদের কাজ হল সবকিছুতে উন্নতি করা, যেমন আক্রমণ, গোল করা, ভালোভাবে রক্ষণ করতে পারা, আক্রমণ ও রক্ষণে সঠিক সমন্বয় তৈরি করা. এমনকি খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও ভালো করা। আমি আমার খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে চাই যাতে তারা একজন ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ হতে পারে। দল হিসেবে আরও শক্তিশালী হতে পারে।”

জামশেদপুরের শক্তি ও চ্যালেঞ্জ :

তবে, জামশেদপুর এফসির শক্তি নিয়ে মোলিনার সতর্কতা ছিল স্পষ্ট। খালিদ জামিলের নেতৃত্বে জামশেদপুর শক্তিশালী আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করছে। বিশেষত তাদের ঘরের মাঠে এই দল প্রমাণ করেছে তারা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। জামশেদপুরের এই শক্তিশালী প্রর্দশনের জন্য তাদের সাম্প্রতিক তিনটি জয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মোহনবাগানের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য :

মোলিনার লক্ষ্য তাই শুধু এই ম্যাচে জয় নয়, বরং দলে ধারাবাহিক উন্নতি আনা। গোল করার ক্ষেত্রে মোলিনার প্রত্যাশা সঠিক হলেও, তার মূল লক্ষ্য দলের সামগ্রিক উন্নতি এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। তিনি জানেন যে, ভবিষ্যতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ তাদের অপেক্ষা করছে এবং সেগুলোতে জয়ী হতে হলে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

মোলিনার মন্ত্র যে, কখনও আত্মবিশ্বাসের চাপে ভেঙে পড়া যাবে না এবং সবসময় সামগ্রিক উন্নতির দিকে মনোযোগ রাখতে হবে। তার দল তার আক্রমণাত্মক খেলা এবং রক্ষণে শক্তিশালী হয়ে এই লড়াইয়ে সফল হবে বলে তিনি আশাবাদী। শেষমেশ, ১৭ জানুয়ারি, জামশেদপুরে যে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে তা শুধুমাত্র মোহনবাগান ও জামশেদপুরের জন্য নয়, বরং পুরো আইএসএলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে চলেছে। কারণ বাগান শিবির এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করলে, লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দৌড়ের শেষ ধাপে পৌঁছে যাবে তারা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleলক্ষ্মীবারে ফের বাড়ল সোনার দাম! কলকাতায় কত হল জানেন
Next articleসইফ আলি খানকে ৬ বার ছুরির কোপ, হাসপাতাল থেকে কী বার্তা দিলেন নবাবপুত্র
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।