মেসি ইভেন্টে হুমড়ি খেয়ে পড়া পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান তদন্ত কমিটির

যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর শনিবারই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়াঙ্গনে এমন বিশৃঙ্খল…

Gangasagar Bridge Muri Ganga

যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর শনিবারই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়াঙ্গনে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাজ্য প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে ক্রীড়াপ্রেমী সকলের মধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই কারণেই দ্রুত পদক্ষেপ করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Advertisements

এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। তাঁর সঙ্গে কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। প্রশাসনিক ও বিচারিক—দুই দিক থেকেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই এই কমিটির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কমিটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিশৃঙ্খলার কারণ অনুসন্ধান নয়, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ইভেন্টে যাতে এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়, তার জন্য সুপারিশও করা।

   

রবিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি এ দিন স্টেডিয়ামের ভিতরে বিস্তারিত ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়। দর্শক বসার গ্যালারি, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, মঞ্চ এলাকা এবং ব্যারিকেড—সবকিছুই ক্যামেরার মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়।

সূত্রের খবর, তদন্ত কমিটি মূলত জানতে চাইছে, দর্শক নিয়ন্ত্রণে কোথায় ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে এত বড় ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয় আয়োজক ও প্রশাসন। অনুষ্ঠানের দিন বহু দর্শক অভিযোগ করেছিলেন যে, টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নির্দিষ্ট আসনে বসতে পারেননি। কোথাও কোথাও ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি এবং বিশৃঙ্খলার কারণে অনুষ্ঠান উপভোগ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই সমস্ত অভিযোগকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত কমিটি স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের কাছ থেকেও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। কত সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিল, কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোথায় গাফিলতি ছিল—এসব বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, এই তদন্ত কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কারও বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুবভারতী স্টেডিয়ামে বা রাজ্যের অন্য কোনও বড় ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে এমন বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনিক সংস্কারের দিকেও নজর দেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভিডিওগ্রাফি ও নথিপত্র সংগ্রহের পর একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়বে। প্রয়োজনে আয়োজক সংস্থা, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্যও নেওয়া হতে পারে।

মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকার অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলা রাজ্যের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই এই তদন্তের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা ক্রীড়ামহল এবং সাধারণ মানুষ। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

 

Advertisements