মেজর লিগ সকারে নিষিদ্ধ লিওনেল মেসি, কারণ জানুন

Lionel Messi Barcelona Return Deemed ‘Impossible

মেজর লিগ সকার (MLS) শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে ইন্টার মিয়ামির তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি (Lionel Messi) এবং জর্ডি আলবা অল-স্টার গেমে অংশ না নেওয়ার কারণে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। এই দুই খেলোয়াড় মেক্সিকোর লিগা এমএক্স-এর বিরুদ্ধে এমএলএস অল-স্টার গেমে অংশগ্রহণ করেননি, যদিও তাঁরা ভোটের মাধ্যমে এই ম্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জানা গেছে, মেসি ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্রাম নিতে এই ম্যাচে খেলেননি এবং আলবা পূর্বের একটি চোটের কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। এমএলএস-এর নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো খেলোয়াড় যদি লিগের পূর্বানুমোদন ছাড়া অল-স্টার গেমে অংশ না নেন, তবে তাঁকে তাঁর ক্লাবের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে নিষেধ করা হয়। ফলে, মেসি এবং আলবা শনিবার ইন্টার মিয়ামির ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা এফসি সিনসিনাটির বিরুদ্ধে হোম ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

এমএলএস কমিশনার ডন গারবার এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি জানি লিওনেল মেসি এই লিগের প্রতি ভালোবাসেন। আমার মনে হয় না যে মেসির চেয়ে মেজর লিগ সকারের জন্য কেউ বেশি কিছু করেছেন। আমি তাঁর ইন্টার মিয়ামির প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি বুঝি, সম্মান করি এবং প্রশংসা করি। তবে দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অল-স্টার গেমে অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘদিনের একটি নীতি রয়েছে, এবং আমাদের সেটি কার্যকর করতে হয়েছে। এটি ছিল খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত।” গারবার আরও জানিয়েছেন যে লিগ এই নীতিটি পুনর্বিবেচনা করবে এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে এই নিয়মের ভবিষ্যৎ রূপ নির্ধারণ করবে।

   

মেসি এবং আলবার এই অনুপস্থিতি ইন্টার মিয়ামির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তাঁরা শনিবারের ম্যাচে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল এফসি সিনসিনাটির মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি ইন্টার মিয়ামির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিনসিনাটি এর আগে তাঁদের ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিল। এমএলএস-এর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে শুক্রবার মেসি এবং আলবা দুজনেই ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিয়েছিলেন, এই আশায় যে তাঁরা শনিবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন। তবে লিগের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের এই ম্যাচে খেলা সম্ভব হবে না।

লিওনেল মেসি, যিনি ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এমএলএস-এর সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন, তিনি এই মরসুমে ১৮টি ম্যাচে ১৮টি গোল করে লিগের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স ইন্টার মিয়ামিকে ২০২৩ সালে লিগস কাপ এবং ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ে সহায়তা করেছে। তবে এই বছরের ব্যস্ত সূচির কারণে মেসির উপর শারীরিক চাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালে তিনি ২৯টি ম্যাচে ২,৪৮১ মিনিট খেলেছেন, যার মধ্যে ২৬টি ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। এই তীব্র সূচির কারণে ইন্টার মিয়ামির কোচ জাভিয়ের মাসচেরানো বারবার মেসির বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

মাসচেরানো বলেছেন, “মেসি অসংখ্য ম্যাচ এবং মিনিট খেলে স্বাভাবিক ক্লান্তি প্রকাশ করেছেন। এই ধরনের ইভেন্ট করা দারুণ, এবং এটি লিগের জন্য ভালো। তবে এটির জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করা উচিত। আমরা প্রায় প্রতি তিন দিনে ম্যাচ খেলছি, এবং এটি খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় দেয় না। ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য, এবং খেলোয়াড় ছাড়া ফুটবল হয় না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটি অ্যাওয়ে খেলেছি। অল-স্টার গেমের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিছু দল আবার খেলতে নামছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট নয়।”

এই ঘটনা এমএলএস-এর নিয়ম এবং তারকা খেলোয়াড়দের ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি জটিল ভারসাম্য তুলে ধরেছে। ২০১৮ সালে এলএ গ্যালাক্সির তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও অল-স্টার গেমে অংশ না নেওয়ার জন্য এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি এই নিয়মকে “হাস্যকর” বলে সমালোচনা করেছিলেন, তবে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছিলেন। মেসি এবং আলবার ক্ষেত্রে, এমএলএস কঠোরভাবে নিয়ম কার্যকর করেছে, যদিও গারবার স্বীকার করেছেন যে লিগের পক্ষে তাঁদের সবচেয়ে বড় তারকাকে নিষিদ্ধ করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল।

ইন্টার মিয়ামির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ তারা সিনসিনাটির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে মেসি এবং আলবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়া মাঠে নামবে। তবে, মেসির প্রভাব এমএলএস-এ অপরিসীম। গারবার বলেছেন, “মেসি গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক ম্যাচে একাধিক গোল করে আমাদের লিগের জন্য অবিশ্বাস্য কিছু করেছেন। তিনি আমাদের বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “মেসি এমএলএস-এর গল্পের একটি অবিশ্বাস্য অংশ হয়ে উঠেছেন। তাঁর মতো খেলোয়াড় আমাদের লিগকে বিশ্বমঞ্চে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।”

এই ঘটনা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মেসির বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কথা বললেও, অনেকে মনে করেন যে অল-স্টার গেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি লিগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমএলএস এখন এই নিয়ম পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়। ইতিমধ্যে, ইন্টার মিয়ামি এবং তাঁদের সমর্থকরা শনিবারের ম্যাচে তাঁদের তারকা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে কীভাবে দল এগিয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখছেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন