
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির (Lionel Messi) অনুষ্ঠান ঘিরে বিপর্যয়ের পর অবশেষে টিকিটের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সিটের তদন্তে উঠে এসেছে, টিকিট বিক্রি করে প্রায় ১৯ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ। সেই টাকা কীভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে দর্শকদের কাছে ফেরানো হবে সেই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে পুলিশ।
বছরের শুরুতেই চাকরি খোয়ালেন তারকা কোচ, বিরাট বার্তা ক্লাবের
তদন্তসূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট বিক্রির বরাত পাওয়া সংস্থা ‘ডিস্ট্রিক্ট বাই জোম্যাটো’কে আগেই তলব করা হয়েছিল। সেখানে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়। জেরায় সংস্থার সহ-সভাপতি জানান, কলকাতা, নয়াদিল্লি ও মুম্বই তিন শহর মিলিয়ে আয়োজক শতদ্রু দত্তের সঙ্গে চুক্তি ছিল। তিন শহরের মোট প্রাপ্যের বেশিরভাগই ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, মাত্র ৮ কোটি টাকা ‘ডিস্ট্রিক্ট’র কাছে বাকি। সিট নির্দেশ দিলে সেই টাকা তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। তবে বাকি অর্থ শতদ্রুকেই দিতে হবে এমনটাই দাবি সংস্থার।
এর মধ্যেই আয়োজক শতদ্রু দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ২২ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা শতদ্রু মুচলেকা দিয়ে জানিয়েছেন, টিকিটের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নেই এবার প্রক্রিয়া শুরু।
ঘটনার দিন যুবভারতীতে উপস্থিত দর্শকদের বয়ানও গুরুত্ব পাচ্ছে তদন্তে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের বক্তব্য রেকর্ড হয়েছে, আরও অনেক দর্শকের বয়ান নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বিপর্যয়ের পরই রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে সমস্ত টিকিটের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। সিটের জেরায় শতদ্রু দত্ত জানান, প্রথমে মাঠে গ্রাউন্ড অ্যাক্সেস কার্ড ছিল দেড়শো জনের। পরে ‘প্রভাবশালীর চাপে’ সেই সংখ্যা তিনগুণ করা হয়। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মেসির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী মাঠের ভিড় ও আচরণে অসন্তোষের কথা জানালে পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার ঘোষণা করা হলেও তাতে কাজ হয়নি।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে। শতদ্রুর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সফরের জন্য মেসিকে দেওয়া হয় ৮৯ কোটি টাকা, আর কর বাবদ ভারত সরকারকে ১১ কোটি,মোট খরচ ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ আসে স্পনসরদের কাছ থেকে, বাকি ৩০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করে।
মেসিকাণ্ডে প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় পদক্ষেপ হয়েছে। ডিজি থেকে ক্রীড়া সচিব একাধিক আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, পাশাপাশি চার আইপিএস আধিকারিককে নিয়ে সিটও কাজ করছে। হাইকোর্টেও মামলা দায়ের হয়েছে।
সব মিলিয়ে, টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে দায় কার, আর এমন বিপর্যয় ঠেকাতে ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? উত্তর খুঁজতেই সিটের তদন্ত ক্রমশ গভীরে ঢুকছে।










