ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL 2025) একাদশ মরসুমের প্রথম লেগের সেমিফাইনালে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট শিবিরে চিন্তার ছায়া পড়েছে। দলের মূল মিডফিল্ডার লালেংমাওয়া ‘আপুইয়া’ রালতে এবং উইঙ্গার মনবীর সিং-এর চোট নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুই তারকা খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলের কোচ হোসে মোলিনা।
আপুইয়া, ফুটবল মহলে এই নামেই পরিচিত, গত ২৫ মার্চ শিলং-এ ভারতের এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের তৃতীয় রাউন্ডে গ্রুপ সি-তে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে পায়ে চোট পান। মঙ্গলবার তিনি মোহনবাগানের প্রশিক্ষণে অংশ নিলেও তাঁর পুরোপুরি ফিট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, মনবীর সিং গত ১৯ মার্চ মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ভারতের প্রীতি ম্যাচের আগে জাতীয় শিবির থেকে চোটের কারণে ছিটকে যান। তিনি মঙ্গলবারের প্রশিক্ষণেও অংশ নেননি, ফলে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে প্রথম লেগে তাঁর খেলা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বাতিল বলে মনে করা হচ্ছে।
মোহনবাগানের কোচ হোসে মোলিনা মঙ্গলবার প্রশিক্ষণের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তারা (আপুইয়া ও মনবীর) চেষ্টা করছেন। তবে তারা এখনও শতভাগ ফিট নন। আমরা আশা করছি তারা খেলতে পারবেন, কিন্তু এখনও অপেক্ষা করতে হবে। বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে আমাদের আরও দুটি প্রশিক্ষণ সেশন রয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোহনবাগান এই মরসুমে লিগ শিল্ড জিতে ইতিমধ্যেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এখন তাদের লক্ষ্য আইএসএল কাপ জিতে ডাবল অর্জন করা। এই লক্ষ্যে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে প্রথম লেগে জয় ছিনিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোলিনা বলেন, “আমি শুধু প্রথম লেগের কথা ভাবছি, আর কিছু নয়। জামশেদপুর এফসি একটি দুর্দান্ত দল, আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখি। তবে আমরা সবসময়ের মতো জয়ের জন্যই খেলব। আমরা অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্রয়ের জন্য সন্তুষ্ট থাকব না। আমাদের দল ভালো আছে, খেলোয়াড়রা শতভাগ দিতে প্রস্তুত।”
আইএসএল-এ এখনও পর্যন্ত মুম্বাই সিটি এফসি একমাত্র দল, যারা ২০২২-২১ মরসুমে লিগ শিল্ড এবং কাপ উভয়ই জিতে ডাবল অর্জন করেছে। মোহনবাগান এবার সেই তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে মরিয়া। দলের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার গ্রেগ স্টুয়ার্ট এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার জন্য কাপ জেতা খুব বড় ব্যাপার হবে। আমি চাই ক্লাবের ইতিহাসে আমার নাম থাকুক।” স্টুয়ার্ট ইতিমধ্যে তিনটি ক্লাবের সঙ্গে লিগ শিল্ড জিতেছেন – জামশেদপুর এফসি, মুম্বাই সিটি এবং বর্তমানে মোহনবাগান। তবে আইএসএল কাপ এখনও তাঁর হাতে আসেনি। তিনি জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গে ২০২১-২২ মরসুমে শিল্ড জয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কেউ ভাবেনি জামশেদপুর শিল্ড জিতবে। সেটা ছিল একটা বিরাট অর্জন। মোহনবাগান বা মুম্বাই সিটির মতো বড় দল থাকা সত্ত্বেও জামশেদপুর শীর্ষে উঠেছিল।”
এবার জামশেদপুরের মাটিতে মোহনবাগানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। গত ১৭ জানুয়ারি এই মাঠে দুই দলের মধ্যে শেষ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। স্টুয়ার্ট সেই ম্যাচের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমরা জিততে পারিনি, তবে খুব ভালো খেলেছিলাম। ফুটবল এমনই, সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। জামশেদপুর খুব সংগঠিত দল, তারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলতে বাধা দেয়।” খালিদ জামিলের কোচিংয়ে জামশেদপুর এফসি এবারও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে।
আপুইয়া ও মনবীরের অনুপস্থিতিতে দলের গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। মঙ্গলবার ২৮ বছরে পা দেওয়া সাহাল আব্দুল সামাদ মনবীরের জায়গায় উইং-এ খেলতে পারেন। অন্যদিকে, আপুইয়ার জায়গায় নাম্বার ৬ পজিশনে দীপক তাংড়িকে শুরু করতে পারেন মোলিনা। এই দুই খেলোয়াড়ের উপর এবার বড় দায়িত্ব থাকবে, বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় নিশ্চিত করার জন্য।
মোহনবাগানের সমর্থকদের জন্য এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি এই মরসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। লিগ শিল্ড জয়ের পর এখন তাদের লক্ষ্য কাপ জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়া। দলটি বুধবার দুপুরে জামশেদপুরের উদ্দেশে রওনা দেবে। সমর্থকরা আশা করছেন, চোটের সমস্যা সত্ত্বেও মোহনবাগান তাদের প্রতিভা ও দৃঢ়তার জোরে জামশেদপুরের মাটিতে জয় ছিনিয়ে আনবে।
এই ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে শুধু জয়ই নয়, দ্বিতীয় লেগের জন্য একটি শক্ত ভিত তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে তাদের ঐতিহাসিক লড়াইয়ে এবারও উত্তেজনা তুঙ্গে। আপুইয়া ও মনবীরের ফিটনেস নিয়ে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা থাকলেও, মোলিনার নেতৃত্বে দলটি পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন দেখার বিষয়, সবুজ-মেরুন ব্রিগেড কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।