জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল আজ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ডায়মন্ড হারবার এফসি-র বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ (RFDL) জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে। এই ম্যাচে বিবান জ্যোতি লস্করের ৩১তম মিনিটে করা অসাধারণ গোল ডায়মন্ড হারবারের প্রথম গোলের জবাব হিসেবে এসেছে, যার ফলে দুই দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে।
এই ড্র-এর মাধ্যমে জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল গ্রুপ পর্বে তাদের দুর্দান্ত অভিযান শেষ করেছে। তারা গ্রুপ এ-তে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উঠে এসেছে, ৫টি ম্যাচে ৩টি জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হারের মাধ্যমে মোট ১০ পয়েন্ট অর্জন করে। দলের সাফল্যের পিছনে অন্যতম নায়ক বিবান জ্যোতি লস্কর, যিনি গ্রুপ এ-তে ৫টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব জিতেছেন। তার আক্রমণাত্মক দক্ষতা এই প্রতিযোগিতায় দলের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রধান কোচ কাইজাদ আম্বাপারদিওয়ালার নেতৃত্বে জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল এই ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জন করেছে, যা ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়ার এই সাফল্য সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার ঢেউ তুলেছে। তারা এখন আগামী ম্যাচগুলির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যেখানে দল আরও ইতিহাস গড়তে পারে কিনা, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।
জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল আগামী ১০ এপ্রিল তাদের সেমিফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। সমর্থকরা এখন এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছেন, দেখতে চাইছেন যে দল তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে কিনা এবং আরএফডিএল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আরও গৌরব অর্জন করতে পারে কিনা।
ম্যাচের হাইলাইটস
আজকের ম্যাচটি মুম্বাইয়ের রিলায়েন্স কর্পোরেট পার্ক ফুটবল গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধে ডায়মন্ড হারবার এফসি একটি দ্রুত গোল করে এগিয়ে যায়, যা জামশেদপুরের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করে। তবে, ৩১তম মিনিটে বিবান জ্যোতি লস্করের দুর্দান্ত গোল দলকে সমতায় ফেরায়। এই গোলটি শুধু ম্যাচে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে না, বরং দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়, কিন্তু কোনো পক্ষই আর গোল করতে না পারায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র-তে শেষ হয়।
এই ফলাফল জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দলের জন্য যথেষ্ট ছিল গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য। গ্রুপ এ-তে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির মধ্যে ছিল ইস্ট বেঙ্গল এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি, এফসি গোয়া, কিকস্টার্ট এফসি এবং ডায়মন্ড হারবার এফসি। ৫টি ম্যাচে ৩টি জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হারের মাধ্যমে তারা ১০ পয়েন্ট অর্জন করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উঠে আসে।
বিবান জ্যোতি লস্করের অবদান
এই প্রতিযোগিতায় জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দলের সাফল্যের পিছনে বিবান জ্যোতি লস্করের অবদান অসামান্য। গ্রুপ পর্বে তিনি ৫টি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার গতি, দক্ষতা এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দলকে বারবার জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজকের ম্যাচে তার গোলটি ছিল দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট, যা শুধু সমতা ফিরিয়ে আনে না, বরং সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে।
কোচ কাইজাদ আম্বাপারদিওয়ালার ভূমিকা
দলের প্রধান কোচ কাইজাদ আম্বাপারদিওয়ালা এই সাফল্যের পিছনে অন্যতম কারিগর। তার নেতৃত্বে জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল একটি তরুণ দল হওয়া সত্ত্বেও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কাইজাদের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা দলকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, “এই দলটি আমাদের যুব উন্নয়ন কর্মসূচির প্রমাণ। আমরা প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করেছি এবং সেমিফাইনালে পৌঁছানো আমাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল।”
সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দলের এই কৃতিত্ব সমর্থকদের মধ্যে অসীম আনন্দের সঞ্চার করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দলের প্রশংসা করেছেন এবং সেমিফাইনালের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। একজন সমর্থক লিখেছেন, “বিবান এবং পুরো দল আমাদের গর্বিত করেছে। এখন আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন দেখছি!” আরেকজন লিখেছেন, “জামশেদপুর এফসি-র ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এই তরুণ দল আমাদের অনেক আশা দিয়েছে।”
আরএফডিএল-এর গুরুত্ব
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ ভারতীয় ফুটবলের যুব প্রতিভাদের বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এই প্রতিযোগিতা তরুণ খেলোয়াড়দের জাতীয় স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেয় এবং ভবিষ্যতে পেশাদার ফুটবলে উন্নতির পথ প্রশস্ত করে। জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দলের এই সাফল্য ক্লাবের যুব উন্নয়ন কর্মসূচির শক্তি প্রমাণ করে এবং ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
সেমিফাইনালের প্রত্যাশা
আগামী ১০ এপ্রিল জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দল তাদের সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি, তবে দলের বর্তমান ফর্ম এবং আত্মবিশ্বাস বিবেচনা করে সমর্থকরা আশাবাদী যে তারা ফাইনালে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিবান জ্যোতি লস্করের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ এবং কোচ কাইজাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
জামশেদপুর এফসি রিজার্ভ দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু ক্লাবের জন্যই নয়, ভারতীয় ফুটবলের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত। গ্রুপ পর্বে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়া প্রমাণ করে যে তরুণ প্রতিভারা সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বড় কিছু অর্জন করতে পারে। এখন সমর্থকদের দৃষ্টি ১০ এপ্রিলের দিকে, যখন দলটি আরএফডিএল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আরও একটি ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করবে।