
আজ নতুন বছরের চতুর্থ দিন। অন্যান্য বছর গুলিতে এই সময় ভরা মরসুম চলতো দেশের ক্লাব ফুটবলের। এমনকি গতবছর এই সময় প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ তথা আইএসএলের (ISL) দ্বিতীয় লেগের অধিকাংশ ম্যাচ। সেইসাথে উইন্টার ট্রান্সফার উইন্ডো নিয়ে মাতামাতি লেগে থাকতো ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বলাবাহুল্য, গত বছরের কয়েক মাস থেকেই ব্যাপক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। ক্লাব জোটের পাশাপাশি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে বারংবার বৈঠক করা হলেও জট যেন কিছুতেই খুলতে চাইছে না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের কথা ছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। তবে এখনও পর্যন্ত ধোঁয়াশায় রয়েছে সমস্ত কিছু। এসবের মাঝেই গত কয়েকদিন আগে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিশ্ব ফুটবল সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বিশেষ ভিডিও আপলোড করেছিলেন ভারতীয় ফুটবলার গুরপ্রীত সিং সান্ধু। তিনি ছাড়াও সেখানে ছিলেন সুনীল ছেত্রী থেকে শুরু করে রাহুল ভেকে ও প্রীতম কোটালের মতো ফুটবলাররা। এছাড়াও বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে ছিলেন হুগো বুমোস ও মাইকেল জাবাকোর মতো ফুটবলার।
যেখানে ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচানোর আর্জি ছিল সকলের। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ‘ এটা জানুয়ারি। এই সময় আমাদের আইএসএলে খেলে আপনাদের টিভি আর ফোনের পর্দায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু আজ আমরা ভয়, অনিশ্চয়তা আর বাধ্যবাধকতা নিয়ে কথা বলছি। সত্যিটা সবাই জানে, ভারতীয় ফুটবলের যারা দায়িত্বে আছেন। তারা তাদের কর্তব্য পালন করতে পারেননি।” যা রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল সর্বত্র। পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের এই ভিডিও আপলোড করে নিজের সোশ্যাল সাইটে জন আব্রাহাম লেখেন, ‘ ধিক্কার আমাদের। আমাদের অবস্থা আজ এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।’
বলাবাহুল্য, দেশের এই প্রথম ডিভিশন লিগ শুরু হওয়ার পর থেকেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তারকা। প্রথম কয়েকটি সিজন খুব একটা আহামরি না গেলেও শেষ কয়েক মরসুমে সর্বভারতীয় স্তরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে আসছে নর্থইস্ট। টানা দুইবার ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ এসেছে তাঁদের ঘরে। এমনকি হুয়ান পেদ্রো বেনালির তত্ত্বাবধানে ইন্ডিয়ান সুপার লিগেও যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স করছে দল। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ক্লাব ফুটবলের অনিশ্চয়তা যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে সকলকে।










