
ভারতীয় ফুটবলের (Football) শীর্ষ লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতার মাঝেই বড়সড় প্রস্তাব পেশ করল ক্লাব জোট। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের অনুরোধের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এবং ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত পরিকল্পনা পাঠিয়ে দিল ১২টি আইএসএল ক্লাব। তবে এই প্রস্তাবে সই করেনি ইস্টবেঙ্গল।
বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে কয়েক কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ভারতীয় ক্রিকেটারের
ক্লাব জোটের মূল দাবি—আইএসএল পরিচালনার পূর্ণ অধিকার এবং মালিকানা থাকবে ক্লাবগুলোর হাতে, ঠিক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল) মডেলে। ফেডারেশন থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে। অর্থাৎ, নিয়ম-কানুন, রেফারি নিয়োগ, লাইসেন্সিং ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব ফেডারেশনের হাতেই থাকবে, তবে লিগের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে ক্লাবগুলোর কাছে।
১০ কোটি টাকার আর্থিক প্রস্তাব
প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, ২০২৬–২৭ মরশুম থেকে প্রতি বছর এআইএফএফকে ১০ কোটি টাকা দেবে ক্লাব জোট। এই অর্থ ব্যয় হবে গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্ট, রেফারি ও কোচ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো মজবুত করার কাজে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অর্থ কোনও বাণিজ্যিক অংশীদার থাকুক বা না থাকুক নিশ্চিতভাবেই দেওয়া হবে। তবে চলতি মরশুমে এই অর্থ দেওয়া হবে না।
ক্লাব জোট অন্তত ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায়, যাতে আইএসএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর অনিশ্চয়তা না থাকে। পাশাপাশি, লিগের শেয়ার কাঠামোতে এআইএফএফের অংশীদারিত্ব থাকলেও, মালিকানা থাকবে ক্লাবগুলোর হাতেই।
বিনয় চোপড়ার নেতৃত্বে চিঠি
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সিইও বিনয় চোপড়া এআইএফএফ ও ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে পাঠানো চিঠিতে ক্লাব জোটের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ইস্টবেঙ্গল বাদে বাকি সব ক্লাবের প্রতিনিধিরা সেই চিঠিতে সই করেছেন। চিঠিতে ফেডারেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ক্রীড়ামন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনায় বসে এই প্রস্তাব বিবেচনা করে।
আইএসএল শুরু হতে পারে ৪৫ দিনের মধ্যে
ভেতরে ভেতরে লিগ আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে ক্লাব জোট। প্রস্তাবের শর্তগুলি মেনে নেওয়া হলে এবং লিগের রাইটস ক্লাবগুলোর হাতে এলে, ৪৫ দিনের মধ্যেই আইএসএল শুরু করার চেষ্টা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি সবুজ সংকেত মিললে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে লিগ শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফেডারেশনের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এআইএফএফের বার্ষিক সাধারণ সভা। সেখানেই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফুটবল মহলের একাংশের মতে, ক্লাব জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে আইএসএলের অচলাবস্থা কাটবে না এবং লিগের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এখন বল কার্যত ফেডারেশনের কোর্টে। ইপিএলের আদলে ক্লাব-নিয়ন্ত্রিত আইএসএল কি ভারতের ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, নাকি মতবিরোধে থমকে যাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল লিগ সেই উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
🚨EXCLUSIVE
ISL clubs submit a detailed proposal to AIFF and the Sports Ministry ahead of tomorrow’s AIFF General Body Meeting, seeking perpetual, club-owned rights for India’s top-tier league with AIFF retaining regulatory oversight. The plan outlines governance, financial… pic.twitter.com/wt1c1rYN9l
— RevSportz Global (@RevSportzGlobal) December 19, 2025










