ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলোয়াড়দের সংগঠন FIFPRO। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্লাবগুলি ইচ্ছেমতো চুক্তিবদ্ধ ফুটবলারদের বেতন বা অধিকার খর্ব করতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ISL ক্লাব খেলোয়াড়দের উপর বেতন কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠন।
আইপিএলের আগে ধাক্কা KKR শিবিরে! বিরতিতে অজিঙ্ক রাহানে
চলতি মরশুমের ISL শুরু হতে চলেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি, যা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ মাস দেরিতে। এই দীর্ঘ বিলম্বের ফলে ক্লাবগুলির আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খেলোয়াড়দের জীবনে। অনেক ফুটবলারই মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
AIFF নতুন শুরুর তারিখ ঘোষণার পর একাধিক ক্লাব দাবি করেছে, খেলোয়াড়রা নাকি স্বেচ্ছায় বেতন কমাতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু FIFPRO এশিয়া/ওশেনিয়া জানিয়েছে, বাস্তব চিত্র আরও জটিল। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অনেক খেলোয়াড় ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ রাজ্য লিগে স্বল্পমেয়াদি চুক্তি করেছেন, কেউ আবার পরিবার চালানোর জন্য বিকল্প কাজ খুঁজছেন। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও খেলোয়াড়রা অসাধারণ পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, কিছু ক্লাব চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের উপর জোর করে বেতন কমানোর চাপ সৃষ্টি করছে।”
সূত্রের খবর, মরশুম সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বেশ কয়েকটি ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। খরচ কমানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এফসি গোয়া ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তাদের দলের ফুটবলাররা বেতন কমাতে সম্মত হয়েছেন।
তবে FIFPRO স্পষ্ট করে দিয়েছে, খেলোয়াড়রা যদি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ক্লাবের সঙ্গে নতুন আর্থিক চুক্তিতে সম্মত হন। তাহলে তা নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু জোর করে বা চাপ দিয়ে বেতন কমানো হলে তা গুরুতর অনিয়ম বলে গণ্য হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এই ধরনের পদক্ষেপ খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। FIFA ও AIFF নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলিকে তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি পালন করতে হয়। কোনও ক্লাব একতরফাভাবে চাকরির চুক্তির শর্ত বদলাতে পারে না।”
এই ইস্যুতে FIFPRO এশিয়া/ওশেনিয়া এবং ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FPAI) যৌথভাবে জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষায় তারা পাশে থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “খেলোয়াড় ও ক্লাবের মধ্যে যদি স্বেচ্ছায় কোনও চুক্তি হয়, তা অবশ্যই সম্মান করা হবে। কিন্তু জোর করে শর্ত পরিবর্তন করলে তা FIFA ও AIFF-এর নিয়ম অনুযায়ী অপব্যবহার হিসেবে ধরা হবে। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা FPAI ও FIFPRO-এর পূর্ণ সহায়তা পাবেন।”
ISL শুরু হওয়ার আগেই এই সতর্কবার্তা ভারতীয় ফুটবলে নতুন করে বেতন ও চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, ক্লাবগুলি এই হুঁশিয়ারিকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
“The league’s restart must not come at the expense of players’ fundamental rights. We respect agreement voluntarily entered into between players and clubs and encourage good faith negotiations. Any attempt to coerce players into amending their terms represents abusive practice.”… https://t.co/ovpMrHOZ68
— Marcus Mergulhao (@MarcusMergulhao) January 16, 2026
