IPL 2022: আগুন ঝরালেন সামি, তেওয়াটিয়ার মারাকাটারি ব্যাটিংয়ে ভর করে জিতল গুজরাট

146
Gujarat Titans defeat Lucknow Super Giants

সোমবারের আইপিএল (IPL 2022) দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে ছিলেন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ অবশ্য একটা নয়, একাধিক। এদিন মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে মুখোমুখি হয়েছিল এবারের আইপিএলের দুই নয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans) এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants)। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার সম্মুখসমরে নেমেছিলেন পান্ডিয়া ব্রাদার্স। তবে ম্যাচের সবথেকে বড় আকর্ষণ ছিলেন গুজরাটের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম ম্যাচে জিতেই অবশ্য মাঠ ছাড়েন তিনি। ২ বল বাকি থাকতে লখনউকে ৫ উইকেটে হারায় গুজরাট।

এই প্রথম আইপিএলে অধিনায়কত্ব করছেন তিনি। নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশটা তাঁর স্মরণীয় হয় কি না, সেটাই ছিল দেখার। তাছাড়া আইপিএল শুরুর আগে নিজের বোলিং নিয়ে হার্দিক সরাসরি কিছু বলতে চাননি। এদিন কিন্তু পুরো চার ওভার হাত ঘোরালেন। যদিও উইকেট ঝুলিতে পুরতে সক্ষম হননি তিনি। সেইসঙ্গে রাহুল তিওয়াটিয়া-বিজয় শঙ্করদের সময় মতো বোলিংয়ে ব্যবহার না করায় অধিনায়ক হিসাবেও বিশেষ নজর কাড়তে ব্যর্থ হার্দিক।

অধিনায়ক হিসাবে প্রথম টস-যুদ্ধটা অবশ্য জিতে নিয়েছিলেন হার্দিক। স্বাভাবিক ভাবেই লখনউকে ব্যাট করতে পাঠান তিনি। বল হাতে শুরু থেকেই আগুন ঝরাতে শুরু করেন মহম্মদ সামি। ম্যাচের প্রথম বলেই লখনউয়ের ব্যাটিংয়ে সবথেকে বড় সম্পদ অধিনায়ক লোকেশ রাহুলকে প্যাভিলিয়নে ফেরান বাংলার এই পেসার। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে শুরুটা খুব তাড়াতাড়ি ভুলতে চাইবেন রাহুল। এরপর অপর ওপেনার কুইন্টন ডি কক এবং মণীশ পান্ডেও সামির শিকার হন। এরই মধ্যে তিন নম্বরে নামা এভিন লুইসকে প্যাভিলিয়নে ফেরান বরুণ অ্যারন। ২৯ রানে চার উইকেট ফেলে লখনউকে কোণঠাসা করে দিয়েও, তার ফায়দা তুলতে পারেনি গুজরাট।

দীপক হুডা এবং দিল্লির তরুণ ব্যাটার আয়ুস বাদোনীর চওড়া ব্যাটে ভর করে বড় স্কোর খাড়া করে লখনউ। ৪১ বলে ৫৫ রান করে হুডা ফেরার পর বাদোনীকে সঙ্গ দেন ক্রুনাল। ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৫৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে আইপিএল অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখেন ২২ বছরের বাদোনী। ১২ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন ক্রুনাল। নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেট খুইয়ে ১৫৭ রান তোলে লখনউ। গুজরাটের হয়ে সামি তিনটি, বরুণ দুটি এবং রশিদ একটি উইকেট পান।

জবাবে গুজরাটের শুরুটাও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারে তৃতীয় বলেই শুভমন গিলকে সাজঘরে ফেরান দুশমন্থ চামিরা। লঙ্কান পেসারের দ্বিতীয় ওভারে আউট হন বিজয় শঙ্কর। ১৫ রানে ২ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন ম্যাথু ওয়েড এবং হার্দিক। দলের স্কোরকে টেনে নিয়ে যান ৭২-এ। তারপর ২৮ বলে ৩৩ করে দাদা ক্রুনালের বলে উইকেট দিয়ে আসেন হার্দিক। পরের ওভারে সেট হয়ে যাওয়ার অপর ব্যাটার ওয়েডকে (২৯ বলে ৩০ রান) ফেরান হুডা।

এরপর গুজরাটকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ডেভিড মিলার-রাহুল তেওয়াটিয়া জুটি। স্পিনারদের ওপর বেশি ভরসা করার খেসারত দিতে হয় রাহুলকে। ১৬তম ওভারে ২২ রান দেন হুডা। আর ১৭তম ওভারে বিষ্ণোই দেন ১৭ রান। আভেশ-চামিরাদের স্পেল থাকা সত্ত্বেও কেন স্পিনারদের টানলেন রাহুল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এই দুই ওভারে ৩৯ রান তুলে ম্যাচ কার্যত পকেটে পুরে নিয়েছিল গুজরাট। আভেশ এসে মিলারকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে আবার দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ২১ বলে ৩০ রান করে আউট হন প্রোটিয়া তারকা। তবে অভিষিক্ত অভিনব সাদারগনিকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন তেওয়াটিয়া। ২৪ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন তেওয়াটিয়া।

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)