জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষিত ভারতীয় দলের নয়া কোচ

ভারতীয় মহিলা হকি (Indian Hockey) দলে ফিরলেন সেই পরিচিত মুখ। প্রায় সাড়ে চার বছর পর আবারও জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেন ডাচ কোচ সোয়ের্দ…

indian-hockey-soeerd-marijnen-returns-as-womens-team-coach

ভারতীয় মহিলা হকি (Indian Hockey) দলে ফিরলেন সেই পরিচিত মুখ। প্রায় সাড়ে চার বছর পর আবারও জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিলেন ডাচ কোচ সোয়ের্দ মারিনে। তাঁর হাত ধরেই ২০২১ টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ইতিহাস গড়েছিল ভারত। প্রথমবার অলিম্পিক্সের সেমিফাইনালে উঠে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল মহিলা দল। সেই স্মৃতিই যেন নতুন করে আশার আলো জ্বালাচ্ছে ভারতীয় হকিতে।

Advertisements

গত মাসের শুরুতেই হরেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে হকি ইন্ডিয়া। তারপর থেকেই মারিনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর দিল হকি ইন্ডিয়া। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সোয়ের্দ মারিনে ও তাঁর সহকারী কোচদের স্বাগত জানানো হয়।

   

দ্বিতীয় মেয়াদে মারিনের সঙ্গে কাজ করবেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন অলিম্পিয়ান মাতিয়াস ভিয়া। ২০০০ সিডনি ও ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিক্সে অংশ নেওয়া ভিয়া ভারতীয় দলে অ্যানালিটিক্যাল কোচের ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি, সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইসর হিসেবে সাপোর্ট স্টাফে থাকছেন ডঃ ওয়েন লোম্বার্ড, যিনি অতীতেও মহিলা দলের ফিটনেসের দায়িত্ব সামলিয়েছেন।

২০১৭ থেকে ২০২১ প্রথম দফায় মারিনের কোচিংয়েই ভারতীয় মহিলা হকি দল পেয়েছিল তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্য। টোকিয়ো অলিম্পিক্সের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারলেও, শেষ চারে পৌঁছনোই ছিল ঐতিহাসিক কীর্তি। শুধু অলিম্পিক্স নয়, তাঁর আমলেই ভারতীয় দল বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দশে জায়গা করে নেয়।

ফের দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত মারিনে নিজেও। সোশাল মিডিয়ায় ডাচ কোচ লেখেন, “সাড়ে চার বছর পর ফিরে এসে ভালো লাগছে। দলের উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খেলোয়াড়দের লক্ষ্যপূরণে নতুন উদ্যম ও নতুন লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করতে মুখিয়ে আছি।”

তবে মারিনের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ভারতে এসে প্রথম বড় পরীক্ষাই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। আগামী ৮ মার্চ থেকে হায়দরাবাদে শুরু হতে চলেছে সেই টুর্নামেন্ট। তার প্রস্তুতির জন্য ১৪ জানুয়ারি ভারতে এসে ১৯ জানুয়ারি থেকে বেঙ্গালুরু সাইতে জাতীয় শিবিরে যোগ দেবেন মারিনে।

হকি ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট দিলীপ তিরকে মারিনে ও তাঁর দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ভারতের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ ছিল ফিটনেস। সেই দিকটায় বিশেষ নজর রেখেই মারিনের কাছ থেকে আমরা আরেকটি সফল মেয়াদ আশা করছি।”

অলিম্পিক্সের স্মৃতি, নতুন চ্যালেঞ্জ আর পুরনো বিশ্বাস। সব মিলিয়ে সোয়ের্দ মারিনের প্রত্যাবর্তন মানেই ভারতীয় মহিলা হকিতে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সময়। আগামী অলিম্পিক্সের দিকে তাকিয়ে এবার কি আরও এক ধাপ এগোতে পারবে ভারত? উত্তর দেবে সময়ই।

Advertisements