ইস্ট-মোহন উচ্চারণে হোঁচট, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে বাংলার পাঠ দিল তৃণমূল

indian-football-mispronunciation-mohun-bagan-east-bengal-sports-minister

বাংলার ফুটবল আবেগে নতুন করে আগুন জ্বালাল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক। শতাব্দীপ্রাচীন দুই প্রধান ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে বারবার ভুল করায় ক্ষুব্ধ বাংলার ফুটবলপ্রেমী (Indian Football) থেকে শুরু করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এহেন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বাংলা বিরোধী মানসিকতা’র অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল।

আইসিসির চাপে সুর বদল বিসিবির? ভারতে আসছে বাংলাদেশ!

   

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ফেডারেশনের সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলির বৈঠক হয়। সেখানেই আইএসএলের সম্ভাব্য রোডম্যাপ জানিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল এবং ১৪টি দলই অংশ নেবে। কিন্তু বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে ‘মোহনবাগান’ হয়ে যায় ‘মোহনবেগান’, ‘ইস্টবেঙ্গল’ হয়ে যায় ‘ইস্টবেগান’। সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

এই ঘটনাকে বাংলার অপমান বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, “বাংলার শতাব্দীপ্রাচীন দুই ফুটবল ক্লাবের নাম তাদের প্রাপ্য সম্মানের সাথে উচ্চারণ করতে পারেন না ক্রীড়ামন্ত্রী। ‘মোহনবেগান’ নয়, ওটা মোহনবাগান। ‘ইস্টবেগান’ নয়, ওটা হবে ইস্টবেঙ্গল। এই ক্লাবগুলি বাংলার প্রতিষ্ঠান। তাই বাংলা বিরোধী শক্তিরা একে কেবল অবজ্ঞার চোখেই দেখে। ফুটবল বাংলার রক্তে। আমরা ফুটবলে বাঁচি, শ্বাস নিই।”

সেই পোস্টে আরও বলা হয়, বহিরাগত শক্তি কখনও বাংলার ফুটবল আবেগ বুঝতে পারবে না এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফরের আগেই “প্রাথমিক বাংলা শিক্ষা” নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ময়দানকে ফিক্সিং-মুক্ত রাখতে পদত্যাগ IFA সহ-সভাপতির

তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ক্লাব মোহনবাগান এবং বাংলার গর্ব ইস্টবেঙ্গলকে অপমান মানে বাংলার ঐতিহ্যকে অপমান করা। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী বাংলার ইতিহাস জানেন না। এটা বাঙালি বিরোধী মানসিকতারই পরিচয়।”

দলের আর এক মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী আরও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী দেশের গর্বের ক্লাবগুলোর নামই জানেন না। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল নামগুলোর সঙ্গে আবেগ, ইতিহাস জড়িয়ে। ইস্টবেঙ্গল আশিয়ান কাপ জিতেছে, মোহনবাগান খালি পায়ে ব্রিটিশদের হারিয়েছে। অথচ ক্রীড়ামন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে নামই ঠিক করে বলতে পারেন না!”

তিনি আরও যোগ করেন, “যাঁরা ‘বন্দে মাতরম’ বলতে গিয়ে ‘বন্দে ভারত’ করে দেন, তাঁদের কাছে মোহনবাগান ‘মোহনবেগান’ হওয়াই স্বাভাবিক। এটাই প্রমাণ করে, বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগকে কতটা অবজ্ঞা করা হয়।”

এই ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, ক্ষুব্ধ বাংলার ফুটবলপ্রেমীরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল শুধু ক্লাব নয়, বাংলার ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের অংশ, সেখানে দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছ থেকে এমন অসচেতনতা কীভাবে গ্রহণযোগ্য?

সব মিলিয়ে, একটি উচ্চারণ ভুল থেকেই ফের একবার কেন্দ্র–রাজ্য টানাপোড়েনের রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল বাংলার ফুটবল আবেগ। এখন দেখার, বিতর্কে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন