কলকাতায় ‘মিস’ মেসি, কিন্তু রাহুলের সঙ্গেই জমল রাজপুত্রের ফুটবলের গল্প

মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে বল, সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি।মেসির উপস্থিতিতে শুধু মাঠ নয়, ভেসে গেল গোটা শহর।হালকা হাসি নিয়ে বল পাস করার চেষ্টা করলেন তিনি।…

hyderabad-sees-an-unusual-match-as-messi-kicks-off-with-cm-revanth-reddy

মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে বল, সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি।মেসির উপস্থিতিতে শুধু মাঠ নয়, ভেসে গেল গোটা শহর।হালকা হাসি নিয়ে বল পাস করার চেষ্টা করলেন তিনি। সেই মুহূর্তে যেন থমকে গেল গোটা হায়দরাবাদ। ফুটবল আর আবেগ—দুটো মিলিয়ে এক অনন্য ছবি ধরা পড়ল শহরের বুকে। গ্যালারি জুড়ে উচ্ছ্বাস, চোখে জল, গলায় চিৎকার—সব মিলিয়ে হায়দরাবাদ যেন সাক্ষী রইল এক স্মরণীয় অধ্যায়ের।

Advertisements

মাঠে নামার পর থেকেই মেসির মুখে ছিল প্রশান্তির ছাপ। এক গাল হাসি নিয়ে গোটা মাঠ ঘুরে বেড়ালেন তিনি। কখনও দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা, কখনও খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন। মাঠে থাকা প্রত্যেক ফুটবলারের সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন, উৎসাহ দিলেন। এমনকি দর্শকদের দিকেও একাধিক শট মারলেন, যেন বলেই দিচ্ছিলেন—এই মুহূর্ত শুধুই খেলার নয়, ভালোবাসারও।

   

হায়দরাবাদের মাঠে সেই দিন ফুটবল মানে শুধু ৯০ মিনিটের খেলা ছিল না। তা ছিল আবেগের উৎসব। মাঠের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। মেসিও ছিলেন স্বচ্ছন্দ। ম্যাচ জেতার পর যেমন চওড়া হাসি ফুটবলারদের মুখে থাকে, ঠিক তেমনই হাসি দেখা গেল তাঁর মুখে। সেই হাসি ছিল স্বস্তির, আনন্দের, আর ভালোবাসায় ভরপুর।

এই সবকিছুই হতে পারত কলকাতাতেও। ফুটবলের সঙ্গে শহরের সম্পর্ক, আবেগ, ইতিহাস—সব দিক থেকেই কলকাতা মেসির জন্য আদর্শ মঞ্চ হতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা বলল অন্য কথা। কলকাতা পারেনি সেই মুহূর্ত ধরে রাখতে। মেসির মুখে হাসি ফোটানো তো দূরের কথা, ভিড়ের ঠেলাঠেলিতে বিরক্ত হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। অগোছালো ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত উত্তেজনা আর শৃঙ্খলার অভাব এক ঐতিহাসিক সুযোগ নষ্ট করে দিয়েছিল।

সেই কলকাতার অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা গেল হায়দরাবাদে। এখানে ছিল পরিকল্পনা, ছিল নিয়ন্ত্রণ, ছিল সম্মান। দর্শকরা বুঝেছিলেন, মেসি শুধু একজন তারকা নন—তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁকে সম্মান জানাতে হলে শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় শর্ত। আর সেই শর্ত পূরণ করেই হায়দরাবাদ জয় করল মেসির মন।

মেসির চোখেমুখে সেই ভালো লাগার ছাপ স্পষ্ট ছিল। মাঠ ছাড়ার সময়ও বারবার ফিরে তাকিয়েছেন গ্যালারির দিকে। যেন বলছিলেন, এই ভালোবাসা তিনি মনে রাখবেন। ফুটবলপ্রেমী শহর হিসেবে হায়দরাবাদ নিজেদের নতুন পরিচয় গড়ে তুলল সেদিন। শুধু একটি ম্যাচ আয়োজন নয়, তারা প্রমাণ করল—আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট কীভাবে সম্মানের সঙ্গে আয়োজন করতে হয়।

কলকাতার জন্য এই ঘটনা নিঃসন্দেহে আত্মসমালোচনার জায়গা তৈরি করে। ফুটবলের শহর হয়েও কেন এমন সুযোগ হাতছাড়া হল, সেই প্রশ্ন উঠবেই। আবেগের সঙ্গে দায়িত্ববোধ না থাকলে যে বড় মঞ্চে ব্যর্থতা অনিবার্য, হায়দরাবাদ বনাম কলকাতার এই দুই ছবি সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

মেসি এসেছিলেন ফুটবল খেলতে, কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিতে। হায়দরাবাদ তাঁকে দিল স্বস্তি, হাসি আর সম্মান। আর সেই কারণেই এই শহর আজ গর্ব করে বলতে পারে—মেসির হাসির অংশীদার তারা।

Advertisements