গত বৃহস্পতিবার থেকেই লিওনেল মেসিকে নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল শহর কলকাতা (Messi GOAT concert )। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শনিবার রাতে কলকাতায় পা রাখেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। এছাড়াও তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের আরও দুই তারকা লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল। তাঁদের উপস্থিতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল শহরের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। বলাবাহুল্য, গত রাত থেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন চত্বরে ভিড় জমাতে দেখা গিয়েছিল বহু ভক্তদের। তারপর সময় সূচি অনুযায়ী আজ সকালে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত হয়েছিল বিশেষ অনুষ্ঠান।
প্রর্দশনী ম্যাচের পাশাপাশি মেসি সহ বাকি দুই তারকা ফুটবলারদের দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু সেখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। বিরাট অর্থ খরচ করে এই অনুষ্ঠানের টিকিট সংগ্রহ করে ও নিজেদের মনের মতো করে মেসিকে দেখতে পাননি ফুটবলপ্রেমীদের একটা বিরাট অংশ। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছিল সকলের মধ্যে। যারফলে পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেখা যায় গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে। দর্শক আসন থেকে উড়ে আসতে শুরু করে জলের বোতল। ভাঙচুর করা হয় স্টেডিয়ামের চেয়ার থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের ব্যানার। এমনকি পরবর্তীতে মাঠে ও ঢুকে যান বহু সমর্থক।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই স্টেডিয়াম থেকে বের করে আনা হয় মেসি সহ বাকি দুই তারকা ফুটবলারকে। এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে শোরগোল ফেলে দিয়েছে সর্বত্র। এই নিয়েই এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল বঙ্গীয় ফুটবল ফেডারেশন। এছাড়াও বিশেষ বিজ্ঞপ্তি মধ্যে দিয়ে সকলকে সহযোগিতা করার কথা জানায় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। আইএফএ সূত্রে বলা হয়, ‘ রাজ্য ফুটবল সংস্থা আইএফএ আজ বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী প্রসঙ্গে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। আইএফএ সুস্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নক্ষত্র লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেজ ও রদ্রিগেজ ডি পল কে নিয়ে এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবেই একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ। আইএফএ কোনও ভাবেই এই উদ্যোগে জড়িত ছিলনা। কেউ এই উদ্যোগ নিয়ে আইএফএর অনুমতি বা পরামর্শ নেয়নি। আমরা সমস্ত ক্রীড়ামোদী মানুষকে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’
অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের তরফে বলা হয়, ‘এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান ছিল যা একটি জনসংযোগ সংস্থা দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল। এআইএফএফ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নের সাথে কোনওভাবেই জড়িত ছিল না। তাছাড়া, অনুষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ এআইএফএফ কে জানানো হয়নি, এবং ফেডারেশনের কাছ থেকে কোনও ছাড়পত্র চাওয়া হয়নি। আমরা সকল অংশগ্রহণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করার এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি। সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা উচিত।’




















