Football: জানেন টোটাল ফুটবল কী! এই ফুটবলের জনক কে?

38
total-football

আধুনিক ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় ১৮৭০ সালের দিকে। শুরু দিকের দিনগুলোতে ফুটবলের (Football) মাঠের ট্যাক্টিস কিংবা ফরমেশন ছিলো খুবই অদ্ভুদ ধরণের!ছোটবেলায় আমরা পাড়ায় ফুটবল খেলতে নামলে যেমন সবাই একসাথে স্ট্রাইকার হয়ে যেতাম, প্রতিপক্ষের কাছে বল গেলেই যেভাবে সবাই মিলে একসাথে বল কেড়ে নেওয়ার চেস্টা করতাম, তখনকার দিকের ট্যাক্সিসও ছিলো অনেকটা এমন!ছিলো ১-২-৭, ২-২-৬ কিংবা ২-৩-৫ এর মত অদ্ভুত সব ফরমেশন!

এরপর কালের বিবর্তনে মাস্টারমাইন্ড কোচরা আনতে থাকের একের পর এর বিখ্যাত ট্যাক্টিস! অইসব ট্যাক্টিসের আবার কাউন্টার ট্যাক্টিস নিয়ে আসেন অন্য আরেকজন মাস্টারমাইন্ড! এভাবে দিনকেদিন ফুটবল হয়ে উঠে আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক, আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য!তবে ফুটবলের সবচেয়ে প্রোডিজিয়াস এবং সারপ্রাইজিং ট্যাক্সিস বলা হয় ‘টোটাল ফুটবল’ কে! ১৯০০ সালের দিকে যার ভিত গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন আয়াক্সের কোচ ‘জ্যাক রেনল্ডস’, পরবর্তীতে ৭০’ এর দশকে এর পরিপূর্নতা দেন আয়াক্সের আরেক কোচ ‘রাইনাস মাইকেলস’ এবং তারই শিষ্য ‘ইয়োহান ক্রুইফ’। 

‘রাইনাস মাইকেলসের’ আগে আরো অনেক কোচই তাদের টিমকে টোটাল ফুটবলের আদতে খেলিয়েছেন। এর মধ্যে, ৪০’ এর দশকে আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেট, ৫০’ এর দশকে পুস্কারের হাঙ্গেরি কিংবা ইংল্যান্ডের বার্নলি, ৬০’ এর দশকে ব্রাজিলের সান্তোস উল্লেখযোগ্য।তবে টোটাল ফুটবলের সবচেয়ে ইফেক্টিভ প্রয়োগ এবং টোটাল ফুটবলকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তোলেন ‘রাইনাস মাইকেলস’ এবং ‘ইয়োহান ক্রুইফ’।৭০’ এর দশকে ‘টোটাল ফুটবল’ এর আগে ফুটবলে ছিলো ইতালীর ‘কাতানেচ্চিও’ ফুটবলের জয়জয়কার। ‘কাতানেচ্চিও’ ছিলো খুবই ডিফেন্সিভ ধরনের ফুটবল ট্যাক্টিস। “ফুটবলে ১ গোল বেশি না দিয়ে, ১ গোল কম কন্সিড করেও ম্যাচ জিতা যায়” এই লাইনটাই ছিলো ‘কাতানেচ্চিও’ ট্যাক্টিসের মূল ভিত্তি। এই ট্যাক্সিসের ফরমেশন ছিলো ৫-৩-২। যেখানে ৫ ডিফেন্ডারের মধ্যে ৪ জন প্রতিপক্ষের এট্যাকারদের ‘ম্যান টু ম্যান’ মার্কিং করে রাখতেন। বাকি ১ জন ছিলো সুইপার ডিফেন্ডার। এই ট্যাক্টিস প্রয়োগ করে ৬০’ এর দশকে ইন্টার মিলানের কোচ ‘হেরেরা’ প্রচুর সফলতা পান। কিন্তু “টোটাল ফুটবলের” জাগরণের পর “কাতানেচ্চিও” ট্যাক্টিস ব্যার্থতার মুখ দেখা শুরু করে।

“টোটাল ফুটবল” হলো এমন একধনের ট্যাক্টিস যেখানে একমাত্র ‘গোলকিপার’ ছাড়া অন্য কোনো প্লেয়ারেরই নির্দিষ্ট কোনো পজিশন থাকে না। প্লেয়াররা নিজেরদের মধ্যে অনবরত সাবলীল ভাবে পজিশন সোয়্যাপ করতে থাকে!’রাইট মিড’ উপরে উঠে গেলে ‘রাইট উইংগার’ নিচে নেমে এসে অই জায়গা কভার দেয়, ‘লেফট ব্যাক’ উপরে উঠে গেলে ‘লেফট মিড’ অই জায়গায় চলে যায়।এভাবে অনবরত একের পর এক পজিশন সোয়্যাপ করার ফলে ‘ম্যান মার্কিং’ সিস্টেম পুরো মাঠে মারা যায়!প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা কনফিউজড হয়ে যেতেন যে তারা কি পিছিয়ে যাওয়া ফরওয়ার্ডকে মার্ক করবে নাকি সামনে এগিয়ে আসা ডিফেন্ডারকে মার্ক করবে!এই কনফিউশানের সুযোগ নিয়ে আচমকাই দেখা যেতো প্রতিপক্ষের ডিবক্সের ভিতরে কোনো প্লেয়ার স্পেস পেয়ে গেছেন! ফলাফল যা হওয়ার তাই হতো, গোওওওওল! এভাবে ‘টোটাল ফুটবল’ ‘ম্যান মার্কিং ফুটবলের’ ভিতটাই নাড়িয়ে দেয়!

‘টোটাল ফুটবল’ যেমন নান্দনিক, ঠিক তেমনি অন্তত হার্ড একটা ট্যাক্টিস! এই ট্যাক্টিসে দলের সব প্লেয়ারকেই হতে হয় ভার্সেটাইল, মাঠের সব জায়গায় সমান নজর রাখতে হয়, সর্বদা স্পেস ক্রিয়েশনের চিন্তা করতে হয়! এইজন্য যেকোনো টিমই এই ট্যাক্টিস ফলো করতে পারে না!তবে টোটাল ফুটবলেরও উইক জোন আছে! ‘৭৪ এর ফাইনালে জার্মানি “ভিজিল্যান্ট ম্যান মার্কিং” করে টোটাল ফুটবলকে আটকে দিতে পেরেছিলো! বর্তমানে ‘জোনাল মার্কিং’ হলো ‘টোটাল ফুটবলের’ অন্যতম বড় শত্রু!কিন্তু “টোটাল ফুটবল” যেভাবে ‘ম্যান মার্কিং’ এর ভিত নাড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকে সারপ্রাইজ দিয়েছিলো তা অন্য কোনো ফুটবল ফিলোসোফিই করতে পারে নি! এইজন্য টোটাল ফুটবলকে বলা হয় “দ্যি মোস্ট সারপ্রাইজিং ট্যাক্টিস অফ ফুটবল”!

(সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে পান। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram এবং Facebook পেজ)