
একটা সময় ভারতীয় ফুটবলে যথেষ্ট নজর কেড়েছিলেন ফেদেরিকো গ্যালেগো (Federico Gallego)। গত ২০১৮-২০১৯ মরসুমে প্রথমবারের জন্য ভারতে খেলতে এসেছিলেন এই উরুগুইয়ান তারকা। সেখানকার শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব বোস্টন রিভার্স থেকে একটি মরসুমের জন্য যোগদান করেছিলেন ভারতীয় ফুটবল দল নর্থইস্ট ইউনাইটেডে। যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে ফিরে গিয়েছিলেন নিজের দেশেই। সেখানে বেশ কয়েকটি দলে খেলার পর পুনরায় উড়ে আসেন ভারতে। এবার গত ২০২২-২০২৩ সালে সুদ আমেরিগো থেকে যোগদান করেছিলেন ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব এটিকে মোহনবাগান অর্থাৎ বর্তমান মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে।
সেখানেই আসে সাফল্য। সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথমবারের মতো আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এই বিদেশি ফুটবলার। যদিও পরবর্তীতে আর তাঁকে দলে রাখেনি ম্যানেজমেন্ট। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকটা সময়। নিজের পুরনো ক্লাবে ফিরে যাওয়ার পর সম্প্রতি ভিলা এস্প্যানোলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বছর পঁয়ত্রিশের এই তারকা। অবশেষে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন মোহনবাগানের এই প্রাক্তনী। বেশ কিছুক্ষণ আগেই নিজের সোশ্যাল সাইটে সেই কথা জানিয়ে দেন গ্যালেগো। যেখানে তিনি লেখেন, ‘ আজ আমি খুব বিশেষ কিছু শেয়ার করতে চাই। অনেক চিন্তাভাবনা এবং আমার মনের কথা শোনার পর, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করার সময় এসেছে। ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আনন্দ, চ্যালেঞ্জ, বন্ধুত্ব, ভ্রমণ, অশ্রু, এবং আজকের এই অবস্থানকে গড়ে তোলার শিক্ষা। অভিষেকের মুহূর্ত থেকেই আমি জানতাম যে প্রতিটি খেলা, প্রতিটি প্রশিক্ষণ সেশন এবং প্রতিটি জার্সি কেবল একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছু।’
আর ও লেখেন, ‘ আমার এমন জার্সি পরার সৌভাগ্য হয়েছিল যা আমি সবসময় আমার হৃদয়ে বহন করব। আমি আমার বাড়ি সুদ আমেরিকা থেকে শুরু করেছিলাম, যেখানে আমি প্রতিদিন লড়াই করার প্রকৃত অর্থ কী তা শিখেছি। তাঁরা আমাকে কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবেও গড়ে তুলেছে। আমি আমার বুজন পরিবারের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর শুরু হয় আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স, কমিউনিকাসিওনেস, লিভারপুল এফ.সি. এবং বোস্টন রিভারের অবিস্মরণীয় অধ্যায়। নিঃসন্দেহে, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি। যেখানে আমি অবিশ্বাস্যভাবে উৎসাহী সমর্থকদের খুঁজে পেয়েছিলাম এবং এমন মুহূর্তগুলো কাটিয়েছি যা আমার ক্যারিয়ার এবং আমার জীবনকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। পরবর্তীতে, আমি এটিকে মোহনবাগানের হয়ে খেলার এবং একটি চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার সুযোগ পাই, এবং অবশেষে ভিলা এস্পানোলায় এই যাত্রা শেষ করি। যে ক্লাবটি আমাকে খোলা হাতে স্বাগত জানিয়েছিল এবং যেখানে আমি আমার শেষ ম্যাচ খেলেছিলাম।’
যোগ করেন, ‘আমি আমার পরিবার, কোচ, সতীর্থ, ক্লাব কর্মকর্তা এবং সর্বোপরি, এই অসাধারণ যাত্রায় আমাকে সমর্থনকারী প্রতিটি ক্লাবের সমর্থকদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তোমাদের ছাড়া এর কিছুই সম্ভব হত না। আজ আমি এই অধ্যায়টি শেষ করছি, কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখা থামাচ্ছি না। আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয় – ভিন্নভাবে, কিন্তু একই আবেগের সাথে যা এই খেলা আমাকে শিখিয়েছিল। প্রতিটি বার্তা, প্রতিটি করতালি, প্রতিটি আলিঙ্গনের জন্য ধন্যবাদ। আমাকে অনুভব করানোর জন্য ধন্যবাদ যে প্রতিটি ত্যাগ মূল্যবান। আমি যেখানেই যাই না কেন, ফুটবল সবসময় আমার বাড়ি থাকবে।’









