কলকাতা থেকে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে আবেগপ্রবণ বার্তা ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলারের

Sol Campbell reacat on Kolkata to Indian Football

১৫ ডিসেম্বর তথা আগামী রবিবার শীতের সকাল কলকাতাবাসীর জন্য হবে বিশেষ একটি দিন। কারণ, এই দিনেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫ কিলোমিটার (Tata Steel World 25K) কলকাতা ম্যারাথন (Kolkata Marathon)। এই অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসেডর (International Eevent Ambassador) হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার (Legendary Footballer) সল ক্যাম্পবেল (Sol Campbell)। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি এই ইভেন্ট গুলি দেশের এবং বিদেশি অ্যাথলেটদের সমন্বয়ে প্রতিযোগিতা হয়,তা প্রতিযোগিতার মান বাড়াতে সহায়ক হয়।”

আর্সলানের এই কিংবদন্তি ফুটবলার আরও বলেন, “দৌড়ানো একটি ভালো উপায় শরীরের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য, যা শারীরিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক। একজন ফুটবলার হিসেবে, আমার ফিটনেস রুটিনে দৌড় ছিল একেবারে মৌলিক।”

   

ফুটবল প্রসঙ্গে সল ক্যাম্পবেল বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বড় একটি পরিবারে জন্মেছি। তবে ফুটবল শেখার আমার প্রধান স্থান ছিল রাস্তা। ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত আমি রাস্তায় ফুটবল খেলেছি। রাস্তার ফুটবল আমাকে কখনই আমার শিকড় ভুলতে দেয়নি।”

আর্সেনালে পাঁচ বছর কাটানোর পর, যেখানে তিনি ১৯৫টি ম্যাচ খেলেন। সঙ্গে দুটি প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং তিনটি এফএ কাপ জিতেছিলেন লাল-সাদা জার্সি পরে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন সল।

কলকাতায় তাঁর শেষ সফরের স্মৃতিচারণ করে সল বলেন, “গতবার আমি এখানে এসেছিলাম ইংল্যান্ডের জয়ী হওয়া অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে। সেখানে ইংল্যান্ড স্পেনকে পরাজিত করেছিল। বিশেষ করে একজন ইংলিশম্যান হিসেবে আমি গর্বিত। ফিল ফোডেন এবং কনর গ্যালাঘার সেই দলে ছিলেন।”

তিনি কলকাতার ফুটবলপ্রেমী (Kolkata Football) দর্শকদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, “কলকাতায় ফুটবলের জন্য ভালোবাসা অসম্ভব। তারা জানে কিভাবে ফুটবল উপভোগ করতে হয়। তাদের মধ্যে ফুটবলের ইতিহাস রয়েছে এবং তারা ফুটবলকে খুবই গুরুত্ব দেয়। এটি শহরের রাস্তায় ফুটবল খেলতে আগ্রহী অনেক তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।”

টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫ কিলোমিটার কলকাতায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সল বলেন, “আমি এখানে এসেছি ফিটনেস এবং ফুটবলের বড় এক প্রচারক হিসেবে। দৌড়ানোর মাধ্যমে ফিটনেস অর্জন করা যায় এবং দৌড়ানোর মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা এবং টেনেসিটি বাড়ানো যায়।”

ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালবাসার কথা উল্লেখ করেও সল বলেন, “আমি জ্যামাইকান পরিবার থেকে এসেছি, তাই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তবে আমি ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ নই। ভারতে ক্রিকেটের গুরুত্ব বিশাল, কিন্তু আমি জানি না ক্রিকেটের সবকিছু। আমি যেকোনো ধরনের খেলা পছন্দ করি, ফুটবল, ক্রিকেট বা ম্যারাথন, কারণ আমি বিশ্বাস করি যে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ফিটনেস অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ভারতে ফুটবল (Indian Football) কোচিং নিয়ে তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে সল জানান, “আমি জানি না আমি কেমন করে সাহায্য করতে পারি, তবে আমি অবশ্যই ভারতীয় ফুটবল উন্নত করার জন্য কিছু অবদান রাখতে চাই। আমি জানি এখানকার মানুষ ফুটবল নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী এবং ফুটবল ভারতীয় ক্রীড়াজগতের দ্রুত বেড়ে চলা একটি অংশ।”

ফুটবলের ১৯৯৮ বিশ্বকাপের স্মৃতি চারণা করে সল বলেন, “ফুটবল একটি ইঞ্চির খেলা। আমি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে গোল করেছিলাম। যদি সেই গোলটি বাতিল না হত, তাহলে হয়তো আমরা সেই ম্যাচটা জিততে পারতাম।”

তিনি রবিবারের ম্যারাথনের প্রসঙ্গে বলেন, “আমি রবিবার ম্যারাথনের প্রতিযোগিতা কাছ থেকে দেখতে অপেক্ষা করতে পারছি না। এটি একটি স্মরণীয় প্রতিযোগিতা হবে এবং আমি নিশ্চিত যে এটি ফিটনেস এবং দৌড়ানোর ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করবে।”

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleবাগান প্রসঙ্গে ‘বিস্ফোরক’ মোহনত্যাগী হুগো বুমোস? জানুন
Next articleগুরুতর চোটে মাদিহ! পাঞ্জাব ম্যাচে নামবেন ডায়মান্তাকস?
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।