পাঁজরে চোট থেকে রক্তক্ষরণ! চোটে কাবু এই তারকা ভারতীয় ব্যাটার

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে দুঃসাহসিক ক্যাচ নিতে গিয়ে গুরুতর চোট পান শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। বর্তমানে তিনি সিডনির এক বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি…

shreyas-iyer-injury-update-sydney-hospital-icu-2025

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে দুঃসাহসিক ক্যাচ নিতে গিয়ে গুরুতর চোট পান শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। বর্তমানে তিনি সিডনির এক বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বাঁ-দিকের পাঁজরে গভীর চোট লেগেছে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আপাতত তাঁকে ৫ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৩৪তম ওভারে। হর্ষিত রানার বলে অ্যালেক্স ক্যারি শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে একটি ক্যাচ দেন। দুরন্ত গতিতে পিছনের দিকে ছুটে গিয়ে শ্রেয়স ক্যাচটি তালুবন্দি করেন, কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে বেখাপ্পা ভাবে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মুখে তীব্র যন্ত্রণার ছাপ ধরা পড়ে। সতীর্থরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে ধরেন, মাঠে প্রবেশ করেন দলের ফিজিও কমলেশ জৈন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কোনওরকমে ড্রেসিংরুমে ফেরেন শ্রেয়স। তবে তখনই তাঁর শ্বাসকষ্ট এবং ব্যথা বাড়তে শুরু করে।

   

ভারতীয় দলের মেডিক্যাল টিম সময় নষ্ট না করে তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শ্রেয়সের পাঁজরে কোনও হাড় না ভাঙলেও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সমস্যা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সংক্রমণের আশঙ্কা এড়াতেই তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

পঞ্জাবে যোগদান করে কী বললেন আর্শদীপ?

একটি সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, “শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) গত কয়েক দিন ধরে আইসিইউ-তেই রয়েছেন। রিপোর্টে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ইঙ্গিত মিলেছে, তাই চিকিৎসকেরা কোনও ঝুঁকি নিচ্ছেন না। আপাতত তাঁর অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।”

শ্রেয়সের চোট ভারতের দলীয় পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাঁকে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে তাঁর খেলা এখন কার্যত অনিশ্চিত। ভারতের প্রথম ম্যাচ ৩০ নভেম্বর, পরের দুটি ম্যাচ ৩ এবং ৬ ডিসেম্বর। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইয়ারের ফিট হয়ে ওঠা বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ইতিমধ্যেই রোহিত শর্মা ও কেএল রাহুল দেশে ফিরে গিয়েছেন, বিরাট কোহলি লন্ডনে গিয়েছেন। একমাত্র শ্রেয়সই রয়েছেন সিডনিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তবে দলীয় চিকিৎসক ও ফিজিও নিয়মিতভাবে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

একজন দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, “দ্রুত হাসপাতালে না নিলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারত। চোটের জায়গা অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে। কখন মাঠে ফিরতে পারবেন শ্রেয়স, এখনই বলা সম্ভব নয়।”