
ধরমশালা: ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ এখন চরম উত্তেজনার মোড়ে (Ind vs SA 3rd T20I)। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ সমতা, ফলে ধরমশালার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি কার্যত সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয়েছে। দুই দলই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেখালেও এখনও পর্যন্ত কেউই ধারাবাহিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। তাই এই ম্যাচে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চুকাতে হতে পারে—এ কথা ভালোভাবেই জানে দুই শিবির।
ধরমশালার উচ্চতাজনিত ভেন্যু বরাবরই আলাদা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত এই মাঠে বলের গতি ও বাউন্স ব্যাটারদের দ্রুত রান করার সুযোগ দেয়। তবে ম্যাচের শুরুতে পিচে কিছুটা ঘাস থাকায় পেসাররাও বাড়তি সাহায্য পেতে পারেন। নতুন বলে সুইং ও সিম মুভমেন্ট থাকায় প্রথম কয়েক ওভার ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
গোট ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা! নিজেদের অবস্থান জানাল দুই ফুটবল ফেডারেশন
ভারতীয় দল এই সিরিজে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ উত্তর খুঁজছিল। কিন্তু বাস্তবে এই সিরিজে কিছু নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডারের স্থায়িত্ব এবং খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। প্রথম দুই ম্যাচেই ভারতের টপ অর্ডার চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বারবার মাঝের ওভারে দলকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে হয়েছে মিডল অর্ডারকে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মা তাঁদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে তাঁরা দলকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হয়েছে, দ্রুত উইকেট পড়লে ভারতের ভুল করার জায়গা এখনও খুবই কম। বারবার ব্যাটিং পজিশন বদল এবং ম্যাচ-আপ পরীক্ষার প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই দল এখনও নিজেদের সেরা কাঠামো খুঁজে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে বেশি গোছানো দল হিসেবেই এই সিরিজে ধরা দিয়েছে। কুইন্টন ডি ককের অভিজ্ঞতা, এইডেন মার্করামের নেতৃত্ব এবং ডেভিড মিলারের ফিনিশিং ক্ষমতা তাদের ব্যাটিংকে ভারসাম্য দিচ্ছে। পাশাপাশি, লুঙ্গি এনগিডি ও মার্কো জানসেনের নেতৃত্বে প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণ বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ। ভারতের ব্যাটিংয়ের অনিশ্চয়তাকে তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে প্রথম দুই ম্যাচে।
সম্ভাব্য একাদশের দিকে তাকালে, ভারতের দলে ওপেন করবেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। মিডল অর্ডারে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার উপর বড় দায়িত্ব থাকবে। অলরাউন্ডার হিসেবে শিভম দুবে ও অক্ষর প্যাটেল ভারসাম্য এনে দিতে পারেন। বোলিংয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং ও বরুণ চক্রবর্তী ধরমশালার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশে রিজা হেনড্রিকস ও কুইন্টন ডি কক ওপেন করবেন। মিডল অর্ডারে মার্করাম, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও মিলারের উপর ভরসা থাকবে। অলরাউন্ড শক্তি বাড়াবেন জর্জ লিন্ডে ও মার্কো জানসেন। পেস আক্রমণে এনগিডি ও অটনিয়েল বার্টম্যান ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ধরমশালার তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শুধুমাত্র সিরিজ জয়ের লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে দুই দলের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতির মানদণ্ডও বটে। যে দল চাপের মুহূর্তে বেশি স্থির থাকবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ঝুঁকবে।










