২৩ ম্যাচ অপরাজিত ডায়মন্ডকে থামাতে কোন পরিকল্পনা জামশেদপুরের? জানালেন নতুন কোচ

Confident Jamshedpur FC under Steven Dias face fearless Kibu Vicuna's Diamond Harbour for a place in Durand Cup 2025 Semi Final

চলতি ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2025) কোয়ার্টার ফাইনালে রবিবার মুখোমুখি হবে কলকাতা ময়দানের যুযুধান দুই পক্ষ। এদিন ম্যাচের তিন ঘন্টা আগে জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রয়েছে শেষ চারের আরও এক লড়াই। জামশেদপুর এফসি (Jamshedpur FC) মুখোমুখি হতে চলেছে প্রতিযোগিতার নতুন মুখ ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC)। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের মাধ্যমে গ্রুপ ‘সি’ থেকে শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইস্পাত নগরীর দল। অপরদিকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে পৌঁছেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি।

গ্রুপ পর্বে জামশেদপুরের পারফরম্যান্স ছিল নিখুঁত। ত্রিভুবন আর্মি এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শুরু, এরপর ইন্ডিয়ান আর্মি এফসির বিপক্ষে ১-০ জয় এবং ১ লাদাখ এফসির বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জয়। এই তিন জয়ে দারুণ ছন্দে থাকা জামশেদপুর এখন টুর্নামেন্টে অপরাজিত।

   

অন্যদিকে, প্রথমবার ডুরান্ড খেলতে এসে নজর কাড়ে ডায়মন্ড হারবার এফসি। মহামেডান স্পোর্টিংকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে তারা। এরপর বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে ৮-১ গোলে উড়িয়ে দেয় দলটি। যদিও শেষ ম্যাচে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে ১-৫ ব্যবধানে হেরে কিছুটা ধাক্কা খায় তারা। তবুও গোল পার্থক্য তাদেরকে শেষ আটে পৌঁছে দেয়।

এসবের মধ্যেও জামশেদপুর দলের কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ায় সরে দাঁড়িয়েছেন খালিদ জামিল। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্টিফেন ডায়াস (Steven Dias), যিনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। আত্মবিশ্বাসী ডায়াস বলেন, “কাল আমরা ডায়মন্ড হারবারের মুখোমুখি হচ্ছি। ওরা তাদের শেষ ২৩টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল, তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আমরা প্রস্তুত, কঠোর অনুশীলন করেছি এবং ছেলেরা ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছে। ঘরের মাঠে খেলা সবসময়ই স্পেশাল, আমি আমাদের সমর্থকদের আহ্বান জানাই—স্টেডিয়ামে এসে ছেলেদের উৎসাহ দিন। আমরা শতভাগ দেবো, জয় আমাদের লক্ষ্য।”

দলের অধিনায়ক প্রণয় হালদার বলেন, “ডায়মন্ড হারবার ভালো দল, ওদের দলে ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে। তবে আমরা নিজেদের খেলা ধরে খেলব। কোচ যেটা বলেছেন সেটাই মাঠে বাস্তবায়ন করতে চাই। আশা করছি ভালো ফল হবে।”

জামশেদপুরের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা এবং তরুণ উদ্যমের মিশেল রয়েছে। যেমন ধিনায়ক প্রণয় হালদার, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আশুতোষ মেহতা, উইঙ্গার ঋত্বিক দাস, ভিন্সি ব্যারেট্টো এবং তরুণ প্রতিভা মহম্মদ সানান, নিখিল বারলা ও প্রফুল কুমার। মাঝমাঠ ও আক্রমণে সংযোজন হয়েছেন জাপানি ফরোয়ার্ড রেই তাচিকাওয়া, যিনি দলের আক্রমণভাগে আলাদা মাত্রা যোগ করবেন বলে মনে করছেন কোচ ডায়াস।

অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার এফসির হয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুকা মাজসেনের, যিনি এর মধ্যেই টুর্নামেন্টে চারটি গোল করেছেন। ইনজুরির কারণে মূল স্ট্রাইকার ক্লেটন সিলভাইরার খেলা অনিশ্চিত, তবে বিকল্প হিসেবে লুকা, জব্বি জাস্টিন এবং গিরিক খোসলা রয়েছেন। মাঝমাঠে হোলিচরণ নার্জারি এবং নারহরি শ্রেষ্ঠার অভিজ্ঞতা দলের বড় শক্তি হতে পারে। ডিফেন্সে স্প্যানিশ অভিজ্ঞতা মিকেল কোর্তাজার এবং মেলরয় আসিসির নেতৃত্বে জোরালো প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্য তাদের।

ডায়মন্ড হারবার কোচ কিবু ভিকুনা (Kibu Vicuna) বলেন, “শেষ ম্যাচে আমরা আশানুরূপ ফল পাইনি, তবে ফুটবলে এমন হতেই পারে। সামনে তাকাতে হবে। জামশেদপুর শক্তিশালী দল, আইএসএল অভিজ্ঞ দল। তবে আমরা আমাদের জার্নি এখানেই থামাতে চাই না। ছেলেরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে, নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।”

Confident Jamshedpur FC under Steven Dias face fearless Kibu Vicuna’s Diamond Harbour for a place in Durand Cup 2025 Semi Final

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleপ্রথমবার লোন নিচ্ছেন? জেনে নিন গোল্ড লোনের সুবিধা ও নিয়ম
Next articleদুশ্চিন্তায় হোম লোনের গ্রাহকরা, বাড়ল SBI-এর সুদের হার
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।