
সন্তোষ ট্রফির ইতিহাসে বাংলা মানেই আলাদা এক গর্ব, আলাদা এক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েই ৭৯তম সন্তোষ ট্রফির মূল পর্বের জন্য ২২ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করল বাংলা (Bengal Football)। গতবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি মূল পর্বে নামছে বঙ্গ ব্রিগেড, আর শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে কোচ সঞ্জয় সেন ভরসা রাখলেন অভিজ্ঞদের সঙ্গে একঝাঁক নতুন মুখের উপর।
বিশ্বকাপের আগে অবসর ঘোষণা করে ক্রিকেটমহলকে চমকে দিলেন অজি অধিনায়ক
রবি হাঁসদা, নরহরি শ্রেষ্ঠা, চাকু মান্ডিদের মতো পরীক্ষিত ফুটবলারদের পাশাপাশি এবার সুযোগ পেয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভা। দল নির্বাচন নিয়ে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোচের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই এই দল গঠন। তিনি জানান, “কোচ সঞ্জয় সেনের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দল নির্বাচনে আমরা ওনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, উনি নিজের সেরাটা উপহার দেবেন বাংলার জন্য।”
১২ দল নিয়ে শুরু হতে চলেছে সন্তোষ ট্রফির মূল পর্ব। দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে দলগুলোকে। গ্রুপ ‘এ’তে বাংলার সঙ্গে রয়েছে তামিলনাড়ু, উত্তরাখণ্ড, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান এবং অসম। অন্যদিকে গ্রুপ ‘বি’তে লড়াই করবে কেরল, সার্ভিসেস, পাঞ্জাব, ওডিশা, রেলওয়ে এবং মেঘালয়। গতবারের রানার্স আপ কেরল ও আয়োজক অসমও সরাসরি মূল পর্বে খেলবে।
আইপিএলের আগে আচমকাই অবসর শাহরুখের দলে খেলা ক্রিকেটারের
বাংলার অভিযান শুরু হবে ২১ জানুয়ারি নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর ২৩ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ড, ২৫ জানুয়ারি রাজস্থান, ২৮ জানুয়ারি তামিলনাড়ু এবং ৩০ জানুয়ারি অসমের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, শেষবার ২০১০-১১ মরশুমে অসমে সন্তোষ ট্রফি আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে ফাইনালে মণিপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। সেই স্মৃতিই এবার নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাবে দলকে।
এক নজরে ২২ সদস্যের বাংলা দল
গোলকিপার: সোমনাথ দত্ত, গৌরব সাউ
ডিফেন্ডার: সুজিত সাধু, মদন মান্ডি, জুয়েল আহমেদ মজুমদার, চাকু মান্ডি, মার্শাল কিস্কু, সুমন দে, বিক্রম প্রধান
মিডফিল্ডার: বিকি থাপা, তন্ময় দাস, প্রশান্ত দাস, শ্যামল বেসরা, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজয় মুর্মু, আকিব নবাব, আকাশ হেমব্রম
ফরওয়ার্ড: সুময় সোম, উত্তম হাঁসদা, করণ রাই, রবি হাঁসদা, নরহরি শ্রেষ্ঠা
কোচ: সঞ্জয় সেন
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই মেলবন্ধন কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে একটাই লক্ষ্য—বাংলার ফুটবলের ঐতিহ্য ধরে রেখে ফের সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।










