নয়াদিল্লি: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সদ্য সাক্ষর হওয়া (SKM protest)মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে উত্তাল হচ্ছে কৃষক রাজনীতি। সংযুক্ত কিষান মোর্চা এই চুক্তিকে সরাসরি “অর্থনৈতিক উপনিবেশবাদের নকশা” বলে আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি চুক্তি সই হওয়ার পর থেকেই SKM-এর অভিযোগ এই চুক্তি ভারতের কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ইউরোপীয় কর্পোরেট শক্তির সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
কিষাণমোর্চার প্রধান আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাস বা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। সংগঠনের দাবি, শুধু কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্য নয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের বাজার খুলে দেওয়া ভারতের কৃষকদের জন্য “বিপর্যয়কর” প্রভাব ফেলবে। তাদের বক্তব্য, সরকার বলছে চাল, গম, দুধ, ডাল-এর মতো মূল কৃষিপণ্যে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি কিন্তু আসল বিপদ আসছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের দিক থেকে, যেখানে ইউরোপীয় পণ্যের ঢল নামবে।
আপনার প্যান কার্ড এবং আধার কি লিঙ্ক করা আছে? দ্রুত অনলাইনে চেক করুন
কিষান মোর্চার মতে এই চুক্তিতে অলিভ অয়েল, মার্জারিন, অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেল, ফলের রস, নন-অ্যালকোহলিক বিয়ার, রুটি, পেস্ট্রি, বিস্কুট, পাস্তা, চকোলেট, পোষ্য খাবার এবং ভেড়ার মাংসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে আমদানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ওয়াইনের শুল্ক ১৫০%থেকে কমিয়ে ২০–৩০ %, স্পিরিট ১৫০ % থেকে ৪০ %, বিয়ার ১১০ % থেকে ৫০ % নামানো হয়েছে। কিউই ও পিয়ারের শুল্ক ৩৩ % থেকে ১০ %, সসেজ ও অন্যান্য মাংসজাত পণ্যে শুল্ক ১১০ % থেকে ৫০ % নামানো হয়েছে বলেও অভিযোগ।
কৃষক সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ইউরোপীয় কৃষি পণ্যের বিপুল সাবসিডি। EU-এর Common Agricultural Policy (CAP)-এর আওতায় ইউরোপের কৃষক ও খাদ্য উৎপাদকরা বিশাল সরকারি সহায়তা পায়। কিষান মোর্চার দাবি, এই চুক্তির ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর সাবসিডিযুক্ত দুগ্ধজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওয়াইন ও স্পিরিট ভারতের বাজারে ঢুকবে। এতে দেশীয় কৃষিপণ্যের দাম মারাত্মকভাবে পড়ে যাবে এবং ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা টিকে থাকতে পারবে না যেমনটা অতীতে ডাল ও ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
কিষান মোর্চা স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, “এটা কোনও মুক্ত প্রতিযোগিতা নয়, এটা ভারতের ছোট কৃষকদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ।” তাদের আরও অভিযোগ, EU পণ্যের প্রায় ৯৬.৬ শতাংশের উপর শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সস্তা আমদানির ঢল নামবে। চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত দিক হিসেবে কিষান মোর্চা তুলে ধরেছে উচ্চমাত্রার ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সুরক্ষা।
কিষান মোর্চা আরও অভিযোগ করেছে, এই চুক্তি গোপনে ও কর্পোরেট চাপের মধ্যে করা হয়েছে। EU যেখানে কঠোর SPS ব্যারিয়ারের মাধ্যমে ভারতীয় ফল ও সবজি (যেমন আম, আঙুর) আটকে দেয়, সেখানে ভারতের মানদণ্ড শিথিল করে ইউরোপীয় পণ্য ঢোকানো হচ্ছে যা “দ্বিমুখী নীতি”। সংগঠনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে সমস্ত নথি সংসদে আলোচনার জন্য পেশ করতে হবে এবং জনসমক্ষে আনতে হবে। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘটে ভারত–ইইউ FTA-এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রচার আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে SKM। কৃষক ও শ্রমিকদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।




















