দিনহাটা: ভোটের মুখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। (BJP leader attack)কোচবিহারের সিতাই বিধানসভা এলাকায় বিজেপি নেতার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপির সিতাই তিন নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি তথা পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য তপন কুমার বর্মন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে সিতাই বিধানসভার পেটলা এলাকায়। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে বেরোনোর সময়ই তপন বর্মনের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার কোপ মারা হয় বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে একাধিক গভীর আঘাত রয়েছে এবং অবস্থা এখনও সংকটজনক।
হাসপাতালে শুয়েই তপন বর্মন সাংবাদিকদের জানান, “আমি সিতাই তিন নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সহ-সভাপতি এবং পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। আজ আমি বোরোডাঙায় দলের নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের কিছু হার্মাদ আমার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা’ বলে দাবি করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতে শাসকদলের মদতেই এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পেটলা ও আশেপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই দাবি করেছেন, ভোটের আগে এই ধরনের সহিংসতা উদ্বেগজনক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তদন্তের পরেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। অনেক সময় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ঘটনাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।




















