শিলিগুড়ি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন শিলিগুড়ির দাঙ্গিপাড়ায় (Siliguri Dangipara)উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সামনে জড়ো হওয়া একদল লোককে ভোটচুরির চেষ্টা করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধা-সামরিক বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর জওয়ানরা হালকা বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছেন। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, তবে কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দাঙ্গিপাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে হঠাৎই কয়েকশো লোক ভোটকেন্দ্র ঘিরে জড়ো হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের লোকজন ভোটচুরির চেষ্টা করছে এবং বুথ দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। তারা সিআরপিএফ-এর কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “ভোটচোররা ভোটকেন্দ্রের কাছে ভিড় জমিয়ে অশান্তি করছে।”
আরও দেখুনঃ ইরান সীমান্তে উত্তেজনা! একাধিক পাক সমর্থিত জঙ্গিকে নিকেশ করল IRGC
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে সিআরপিএফ-এর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে জওয়ানরা মাইকিং করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেন এবং শান্তি বজায় রাখতে বলেন। কিন্তু ভিড় না সরায় জওয়ানরা হালকা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে ভিড় দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে বলছেন, “ভোট দিতে এসে এমন ঝামেলা দেখে ভয় লাগছে।”
#WATCH | Siliguri, West Bengal: The Central Armed Paramilitary Forces (CRPF) personnel dispersed a crowd gathered near a polling station. Mild force was used to disperse the people.
This incident took place in the Dangipara area of Siliguri. pic.twitter.com/MQB52Na14P
— ANI (@ANI) April 23, 2026
স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই ঘটনার পর সিআরপিএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁরা বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে আজ দাঙ্গিপাড়ায় বড় ধরনের অশান্তি হতো। তৃণমূলের লোকেরা ভোট চুরি করতে এসেছিল। সিআরপিএফ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে সঠিক কাজ করেছে।” অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, “বিজেপি কর্মীরাই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করছিলাম।
সিআরপিএফ অযথা লাঠিচার্জ করেছে।”দাঙ্গিপাড়া শিলিগুড়ির একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে। প্রথম দফার ভোটে এই এলাকাটি সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল। ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তাঁরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে ভোটচুরি হয়ে যেত।” আবার অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, “ভোটের দিনেও এমন অশান্তি কেন? আমরা শুধু শান্তিতে ভোট দিতে চাই।” ঘটনায় দু’-তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।




















