বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলে প্রতিভা গড়ার অন্যতম বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ, সংক্ষেপে আরএফডিএল। দেশের তরুণ ফুটবলারদের সামনে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ করে দিতে শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি ভারতীয় যুব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই লিগ। মূল লক্ষ্য ছিল ভারত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ফুটবলারদের একত্রিত করে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তুলে ধরা। সিনিয়র পর্যায়ে ওঠার আগে তরুণদের জন্য যে সঠিক মঞ্চ প্রয়োজন, সেই শূন্যস্থান অনেকটাই পূরণ করেছে আরএফডিএল।
এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৬০টিরও বেশি দল অংশ নেয়। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ক্লাবগুলির যুব ও রিজার্ভ দল ছাড়াও অন্যান্য ক্লাবও এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পায়। ফলে শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও রাজ্যগুলির ফুটবলাররাও নজরে আসার সুযোগ পান।আরএফডিএল তৈরির ভাবনা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের জুন মাসে। ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং আইএসএল ক্লাবগুলির শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকে নতুন একটি উন্নয়নমূলক প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা হয়। কোভিড পরবর্তী সময়ে যুব ফুটবলারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই লিগ চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রথম সংস্করণ গোয়ায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। বায়ো-সিকিওর পরিবেশে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে এপ্রিল মাসে শুরু হয়। শুরু থেকেই এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ভবিষ্যতের ভারতীয় ফুটবল গড়ার কারখানা হিসেবে। এই লিগে খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্পষ্ট নিয়ম। মূলত অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারদের নিয়েই দল গঠন করতে হয়। তবে ২১ থেকে ২৩ বছর বয়সী পাঁচজন খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে রাখার অনুমতি রয়েছে। ম্যাচের প্রথম একাদশে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক তিনজনকে নামানো যায়। নিবন্ধনের সময় ফুটবলারের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৫ বছর। প্রতিটি দলে সর্বাধিক ২৪ জন ফুটবলার রাখা যায়। বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের অনুমতি নেই, ফলে পুরো মঞ্চটাই ভারতীয় প্রতিভাদের জন্য।
এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেক তরুণ ফুটবলার পরে সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন আইএসএল ও আই-লিগ ক্লাবের নজরে এসেছেন একাধিক নতুন মুখ। ফলে আরএফডিএল এখন শুধু একটি লিগ নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের প্রতিভা সন্ধানের অন্যতম রাস্তা। সাফল্যের নিরিখে বেঙ্গালুরু এফসি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল। তারা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারাই।ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নতুন করে ভাবনা চলছে, তখন আরএফডিএল নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখাচ্ছে। বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা যত শক্তিশালী হবে, ততই শক্ত ভিত তৈরি হবে দেশের ফুটবলে। সেই জায়গায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।




















