ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তার পুরোনো ট্যাঙ্ক বহরকে আধুনিকীকরণের জন্য বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেনাবাহিনী তার প্রধান প্রকল্প ‘রঞ্জিত’ (ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকেল – এফআরসিভি) চালু করেছে, যার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে পুরোনো টি-৭২ ট্যাঙ্কগুলোকে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তির ট্যাঙ্ক দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।
প্রতিরক্ষা সূত্র অনুসারে, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২,২০০টি নতুন প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ট্যাঙ্কগুলো আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা মেটানোর জন্য ডিজাইন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে অনুমোদন পেয়েছে এবং এতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতীয় সংস্থাগুলোও এতে জড়িত রয়েছে, যারা আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে প্রোটোটাইপ তৈরি করবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এই নতুন ট্যাঙ্কগুলো সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা।
ট্যাঙ্কটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে ব্যবহৃত হয়েছিল। টি-৭২ ট্যাঙ্ক বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক। সোভিয়েত ইউনিয়ন (ইউএসএসআর) ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে টি-৭২ ট্যাঙ্কের উন্নয়ন শুরু করে। এবং এর উৎপাদন ১৯৭১ সালে শুরু হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রুশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কয়েক বছর পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারত প্রায় ১৯৭৮ সাল নাগাদ তাদের সেনাবাহিনীতে টি-৭২ ট্যাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করে। ভারতে এর নাম দেওয়া হয়েছিল “অজয়”। পরবর্তীতে লাইসেন্স উৎপাদনও শুরু হয় (আভাডি, চেন্নাইতে)।
উল্লেখযোগ্যভাবে, টি-৭২ ট্যাঙ্ক দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসছে। এই ট্যাঙ্কের উন্নত সংস্করণগুলো এখনও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটিকে পর্যায়ক্রমে আরও আধুনিক ট্যাঙ্ক দিয়ে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা এখন চলছে।
নতুন ট্যাঙ্কগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী হবে?
প্রকল্প রঞ্জিতের অধীনে নির্মিতব্য নতুন ট্যাঙ্কগুলোতে বিভিন্ন ধরনের উন্নত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এগুলো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক ব্যবস্থা। এগুলোতে সক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা (এপিএস), ড্রোন সংযোজন এবং উন্নত ফায়ারপাওয়ার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে।
আধুনিক যুদ্ধের প্রতিকূলতা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। আজকের যুদ্ধে ট্যাঙ্কগুলো অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম), স্মার্ট অস্ত্র ও নির্ভুল গোলাবারুদ, মাইন এবং আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)-এর মতো গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হয়। প্রজেক্ট রঞ্জিত বিশেষভাবে এই হুমকিগুলো মোকাবেলা করতে এবং ট্যাঙ্কগুলোর টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এই অত্যাধুনিক ট্যাঙ্কগুলির আগমন ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্থল শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এটি সীমান্ত এলাকায় উন্নততর নিরাপত্তা প্রদান করবে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরশীলতাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলবে। এই প্রকল্পটিকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।




















