‍‘ধুর্ত’ শুভেন্দুকে পরাজিত করতে মমতার অস্ত্র সৌমেন

55
Suvendu Adhikari Soumen Mahapatra

চলতি বছরেই মন্ত্রীসভায় খোলনলচে বদলে ফেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)৷ সেবার মন্ত্রীসভায় ডানা ছাটা হয় সৌমেন মহাপাত্রের (Soumen Mahapatra)। দীর্ঘ সময়ের মমতা বন্দোপাধ্যায়ের খুব কাছের ব্যক্তি সৌমেন মহাপাত্রকে মন্ত্রীপদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল৷ এখন সাংগঠনিক পদ থেকে সরনো হল তাকে। এমনকি সমস্ত সরকারি পদ থেকে সরানো হয়েছে তাঁকে। যা নিয়ে জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

গত বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রতিপক্ষ শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি৷ তখন থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা৷ তাই শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদেই তাকে রেখেছেন মমতা৷ কিন্তু সরানো হয়েছে তমলুক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে।

উল্লেখ্য,সপ্তাহখানেক আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে এসে চিত্তরঞ্জন মাইতির কথা বলেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি, তিনি কোনও সরকারি পদে রয়েছেন কি না তা-ও জানতে চেয়েছিলেন মমতা। তারপরেই এই তমলুকের জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে চিত্তরঞ্জনের নাম ঘোষণা করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।সরকারি নির্দেশিকা জারি করে এই রদবদলের কথা জানানো হয়।

সূত্রের খবর, ২৪ এর নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে সৌমেনকে। শোনা যাচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচনে তলমুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাকে প্রার্থী করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার দলের একাংশের ধারণা, এক ব্যক্তি, এক পদের নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও দলের সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য করে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুজ।

তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। শুভেন্দুর জেলাতে দুটি আসন দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে ঘাসফুল এবং পদ্ম শিবির। তাই শুভেন্দুর মতো ধুর্ত রাজনীতিবীদের মোকাবিলায় বর্ষীয়ান সৌমেন মহাপাত্রকে ব্যবহার করতে চান মমতা।