কলকাতা: ‘বন্দে মাতরম্’ রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য এবং (Bankim Chandra)শ্রম বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র আধিকারিক, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। কলকাতায় বিজেপির সল্টলেক অফিসে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।
বিশেষ করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই যোগদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায় বঙ্কিমচন্দ্রের পঞ্চম প্রজন্মের বংশধর। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে প্রকাশিত ‘বন্দে মাতরম্’ গান ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পেয়েছে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক। সুমিত্রা নিজে শ্রম বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, যেখানে তিনি শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান নীতি এবং সামাজিক ন্যায়ের বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার, জেনে নিন কোন জেলায় কত Central Forces মোতায়েন
।অনুষ্ঠানে ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “বন্দে মাতরম্ আমাদের জাতীয় গৌরব। বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস্য সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের যোগদান বিজেপির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রাখবেন।” শমীক ভট্টাচার্য যোগ করেন যে, সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তির যোগদান দেখাচ্ছে যে, বিজেপি সব শ্রেণির মানুষকে একত্রিত করছে। তিনি বলেন, “বাংলায় বিজেপি ক্রমাগত বাড়ছে।
এই যোগদান রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের আকর্ষণের প্রমাণ।”সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজে তার যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি বিজেপির উন্নয়নমুখী নীতি, জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান রাজ্য সরকার বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ি ও ঐতিহ্যকে অবহেলা করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি এবং তার পরিবারের অন্য সদস্য সজল চট্টোপাধ্যায় বিজেপির সঙ্গে মিলে বঙ্কিমচন্দ্রের কলকাতার বাড়ির অবহেলা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন।
সেই বাড়ি রাজ্য সরকারের অধিগ্রহণের পর থেকে অব্যবহৃত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সুমিত্রা বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে এবং বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপির সঙ্গে যোগ দেওয়া আমার জন্য গর্বের।” তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা বলেছে এই যোগদানে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন হবে না। তবে তৃণমূল সুমিত্রকে কটাক্ষ করে বলেছে যারা বঙ্কিম চন্দ্রকে বঙ্কিমদা বলে বাংলার ঐতিহ্য বোঝে না তাদের দলে গিয়ে বঙ্কিম চন্দ্রকে অপমান করেছেন তার বংশধর।




















