কলকাতা: বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Osman Hadi)। রবিবার অভিযানে নেমে এই মামলার দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ধৃতদের নাম রাহুল ওরফে ফয়সাল কিরম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই ফয়সালই ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ফয়সালের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়। অন্যদিকে আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকা শহরে। অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাংলাদেশ ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিল। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে এসটিএফ।
আরও দেখুনঃ টস জিতেছে নিউজিল্যান্ড, প্রথমে ব্যাট করবে ভারত
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঠিক কোন জায়গা থেকে তাদের ধরা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থেই এই বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। নিহত ওসমান হাদি-কে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
হাদির মৃত্যুর পর ঘটনাটি বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সে সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে। এমনকি হাদির স্মৃতিতে রাষ্ট্রীয় শোকও ঘোষণা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিবি পুলিশ দাবি করেছিল যে, পুরো হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল কিরম মাসুদ। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পরপরই সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই তাকে ধরতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা তৎপর ছিল। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের অভিযানে ধরা পড়ল এই দুই অভিযুক্ত। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা গা ঢাকা দিয়ে ছিল এবং ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছিল।
এই গ্রেফতারির ফলে তদন্তে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। কারণ ফয়সালকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পেছনের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই মামলার পেছনে বড় কোনও অপরাধচক্র বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




















