কলকাতা: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠল মোহনবাগান ক্লাব প্রাঙ্গণ। বরাবরের মতোই সবুজ-মেরুন রঙে সেজে উঠেছিল শতাব্দীপ্রাচীন এই প্রতিষ্ঠান। ক্লাবের প্রধান ফটক থেকে মাঠ এবং তাঁবু পর্যন্ত রাস্তা সাজানো হয় অসংখ্য জার্সি ও বড় হাতপাখা দিয়ে। সকাল সাড়ে ন’টায় ময়দানের ঐতিহ্য মেনে অনুষ্ঠিত হয় বারপুজো। পুজোয় উপস্থিত ছিলেন ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সচিব সৃঞ্জয় বসু, অধিনায়ক শুভাশিস বসু এবং ফুটবলার মনবীর সিং। সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো হলেও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
কর্তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আবহ তার একটি কারণ হতে পারে। নববর্ষের দিনেই ক্লাবের জন্য এল বড় সুখবর। মোহনবাগান নতুন স্পনসর হিসেবে পেল রিপ্লে-কে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট, হকি এবং অ্যাথলেটিক্স বিভাগে প্রধান স্পনসর থাকবে তারা। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস দত্ত, সৃঞ্জয় বসু এবং সৌমিক বসু। নতুন বছরকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানালেন ক্লাব কর্তারা।
কিছুদিন আগেই হকি অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কথাও দু’বছর আগে জানানো হলেও তা এখনও শুরু হয়নি। এবার এই দুই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবে নতুন সংযোজন হিসেবে তৈরি হতে চলেছে পিকলবল কোর্ট। বর্তমানে দেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই খেলা। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, পুনের পাশাপাশি কলকাতাতেও আগ্রহ বাড়ছে।
সচিব সৃঞ্জয় বসু জানান, ক্লাবকে আরও প্রাণবন্ত করতে এবং নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, শুধু পুরনো সদস্য নয়, তরুণরাও যেন ক্লাবে এসে খেলাধুলায় অংশ নেন, সেটাই লক্ষ্য। সদস্য ও সমর্থকেরা যাতে ক্লাবেই পিকলবল খেলতে পারেন, তার জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই হয়েছে। পাশাপাশি হকি অ্যাকাডেমির মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিভা তুলে আনার দিকেও জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে হকি দলে বাইরের রাজ্যের খেলোয়াড় বেশি থাকায়, ভবিষ্যতে বাংলার ছেলেদের সুযোগ করে দিতে চায় ক্লাব। গত কয়েক বছরে ক্লাবের দুই শীর্ষকর্তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা ছিল।
তবে গত এক বছরে সেই দূরত্ব অনেকটাই কমেছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর এটাই তাঁদের প্রথম একসঙ্গে বারপুজোয় বসা। সভাপতি দেবাশিস দত্ত জানান, সবাই মিলে ।মোহনবাগানকে আরও সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়াই এখন লক্ষ্য। শুধু ট্রফি জেতাই নয়, বাংলার বিভিন্ন খেলাধুলার উন্নয়নেও ক্লাব ভূমিকা নিতে চায়। পাশাপাশি ক্লাবের পরিকাঠামো আধুনিক ও উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফুটবলের ক্ষেত্রেও আশাবাদী মোহনবাগান শিবির। গত বছর নববর্ষে ক্লাব লনে আইএসএল ট্রফি ও শিল্ড প্রদর্শিত হয়েছিল।
এবারও আইএসএল জয়ের স্বপ্ন দেখছেন কর্তারা। সাম্প্রতিক কিছু ড্রয়ের পর দল কিছুটা চাপে পড়লেও পাঞ্জাব ম্যাচে জয়ের পর আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে সার্জিও লোবেরার দল। নববর্ষের দিন তাই ঐতিহ্য, ঐক্য এবং নতুন স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এক বিশেষ আবহে ভাসল মোহনবাগান ক্লাব।




















