কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। আইএসএল লিগের শেষ পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচ যেন ফাইনালের সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। মোহনবাগান (Mohun Bagan)এবং ইস্টবেঙ্গল, দুই প্রধানই এখনও খেতাবের দৌড়ে রয়েছে। তাই সামনে থাকা প্রতিটি ম্যাচ এখন তাদের কাছে বাঁচা-মরার লড়াই।
সম্প্রতি পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ মুহূর্তের গোলে জয় তুলে নিয়েছে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে পাওয়া সেই গোল দলকে তিন পয়েন্ট এনে দিলেও পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন কোচ সের্খিও লোবেরা।
কারণ, এই ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল সবুজ-মেরুনদের। রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। প্রতিপক্ষ বারবার সুযোগ তৈরি করেছে, যা বড় দলের ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ। ম্যাচ শেষে লোবেরা খোলাখুলি বলেন, আগের কয়েকটি ম্যাচে দল জয় না পেলেও ভালো ফুটবল খেলেছিল। কিন্তু পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সেটা দেখা যায়নি। তাঁর মতে, সহজে গোল খেয়ে ফেলা এবং রক্ষণে ভুল করা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যদি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য থাকে, তাহলে দ্রুত এই ভুল শুধরে নিতে হবে।মোহনবাগানের (Mohun Bagan)সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা।
পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু এফসি। সুনীল ছেত্রীদের দল শক্ত প্রতিপক্ষ এবং তারা হার থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে। তাই এই ম্যাচ মোটেও সহজ নয়। তবে ঘরের মাঠে খেলবে মোহনবাগান (Mohun Bagan), যা কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। এই ম্যাচে জয় পেলে শিরোপার লড়াইয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলও নতুন করে আশা দেখছে। চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে তারা আবার প্রতিযোগিতায় ফিরেছে। কোচ অস্কার ব্রুজ়োর দল এখন আত্মবিশ্বাসী। দলে কেভিন সিবিলের ফেরায় রক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি রশিদও চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন, যা লাল-হলুদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, বাকি সব ম্যাচ জেতা।
কারণ, এই পর্যায়ে পয়েন্ট নষ্ট মানেই খেতাবের স্বপ্নে বড় ধাক্কা। প্রতিটি ম্যাচ এখন নকআউটের মতো। জিতলে আশা থাকবে, হারলে বা ড্র করলে পথ অনেক কঠিন হয়ে যাবে। শুধু দুই প্রধান নয়, শিরোপার দৌড়ে রয়েছে মুম্বইও। ফলে মোহনবাগান (Mohun Bagan) ও ইস্টবেঙ্গল, দু’দলের উপরই চাপ বাড়ছে। এখন আর ভুলের সুযোগ নেই। রক্ষণ, আক্রমণ, মানসিক দৃঢ়তা, সব বিভাগেই সেরাটা দিতে হবে।কলকাতার দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সমর্থকদের চোখ এখন বাকি ম্যাচগুলোর দিকে। কে এগিয়ে যাবে, কে পিছিয়ে পড়বে, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহেই। তবে একটাই নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত জমজমাট লড়াই অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য।




















