
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: যে ক্লাব একসময় কলকাতার ফুটবলের গর্ব ছিল, সেই Mohammedan SC আজ যেন গভীর সংকটের অন্ধকারে আটকে পড়েছে। East Bengal এবং Mohun Bagan-এর সঙ্গে একসারি উচ্চারিত নাম, সেই ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো শিবির এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, তার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে অনুশীলন মাঠেও।
শ্রমিক দিবসের দিন, ১ মে-র সকালে মহামেডানের অনুশীলন কেন্দ্রে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য চোখে পড়ে। যেখানে থাকার কথা ছিল পুরো দল, সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এক জন ফুটবলারও। মাঠে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন কোচ Mehrajuddin Wadoo। এই দৃশ্যই যেন স্পষ্ট করে দেয়, ক্লাবের ভিতরে জমে ওঠা ক্ষোভ কতটা গভীর। খবর অনুযায়ী, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ফুটবলাররা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: আইএসএল রেফারিং বিতর্কে মুখ খুললেন প্রাঞ্জল, বাংলার সংকট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক বঞ্চনার প্রতিবাদেই তাঁরা অনুশীলন বয়কটের পথে হেঁটেছেন। কোচিং স্টাফ মাঠে এলেও, খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ড্রেসিংরুমে অসন্তোষ এখন চরমে, এবং সেই অস্থিরতা আর চেপে রাখা যাচ্ছে না। এই সমস্যার প্রভাব মাঠের ফলাফলেও স্পষ্ট। চলতি মরসুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে মহামেডানের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ১০টি ম্যাচ খেলেও একটি ম্যাচ জিততে পারেনি দল। মাত্র তিনটি ড্র এবং সাতটি হারের ফলে তারা লিগ টেবিলের একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে। হাতে মাত্র তিন পয়েন্ট— যা অবনমনের আশঙ্কাকে আরও প্রবল করে তুলছে।
আরও পড়ুন: বাংলার ফুটবলের নতুন বিস্ময়? মুখোমুখি আরএফডিএলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তানবীর দে
শেষ ম্যাচে Sporting Club Delhi-র বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করার পর কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল দলকে। কিন্তু সেই বিরতির পর ফের অনুশীলনে ফেরার দিনেই এই বয়কট পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ক্লাব কর্তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ Kerala Blasters FC-এর বিরুদ্ধে। কিন্তু খেলোয়াড়রাই যদি মাঠে নামতে না চান, তাহলে সেই ম্যাচে দল গঠন কীভাবে সম্ভব, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। মহামেডানের আর্থিক সমস্যা অবশ্য নতুন নয়।
আরও পড়ুন: ফাস্ট বোলার গড়ার বড় উদ্যোগ ! প্রজেক্ট ‘গতিতে’ গতি পাবে বাংলার ক্রিকেট?
গত কয়েক বছরে একাধিকবার স্পনসর এবং বিনিয়োগকারীর সন্ধান করা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। কোচ পরিবর্তন, প্রশাসনিক অস্থিরতা, অনুশীলন বয়কট— এই সব কিছুই আগেও দেখা গিয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর, কারণ এখানে শুধুমাত্র খেলার ফর্ম নয়, গোটা দলের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে। ফুটবলারদের দাবি খুবই স্পষ্ট— বকেয়া বেতন মেটানো না হলে তারা মাঠে নামবেন না। ফলে শতাব্দী প্রাচীন এই ক্লাব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে মাঠের বাইরের সংগ্রাম। মহামেডান কি এই সঙ্কট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি ইতিহাসের গৌরব ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে— সেই উত্তরই এখন সময়ের অপেক্ষা।












