উত্তরবঙ্গ: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন উত্তরবঙ্গ বারবারই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ বিজেপির প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছিলেন, তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার শিলিগুড়ির জনসভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
শিলিগুড়ির সভা কার্যত উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চে পরিণত হয়। মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, উত্তরবঙ্গ সবসময়ই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এই অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন এবং সমস্যাকে বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে বারবার অবিচার হয়েছে। উন্নয়নের নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।” প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় গত বছরের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস এবং তোর্ষা নদী-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন, প্রাণ হারান ২৩ জনেরও বেশি। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল।
এই প্রসঙ্গ টেনেই মোদী তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন, “যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত, চারদিকে হাহাকার তখন কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল চলছিল। এটা কি সংবেদনশীলতার পরিচয়?” তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি উদাসীন। শুধু বন্যা নয়, উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও তিনি একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদিবাসী সম্প্রদায়, চা-বাগানের শ্রমিক, মহিলা এবং যুবকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই সমস্ত শ্রেণির মানুষই বর্তমান ব্যবস্থায় বঞ্চিত। “তৃণমূল সরকার উত্তরবঙ্গ বিরোধী, আদিবাসীবিরোধী, চা-বাগানবিরোধী, মহিলা ও যুববিরোধী,” এই ভাষাতেই আক্রমণ শানান তিনি।
একইসঙ্গে, মোদী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ এখন নতুন দিশা খুঁজছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। মানুষ উন্নয়ন চায়, স্বচ্ছতা চায়, এবং এমন একটি সরকার চায় যা সব অঞ্চলের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।”




















