নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ: ভারত তার আকাশভিত্তিক নজরদারি সক্ষমতা ক্রমাগত জোরদার করছে। সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিএস) এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ (ডিএসি) ছয়টি নতুন এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এই বিমানগুলো ব্রাজিলীয় কোম্পানি এমব্রায়ারের ইআরজে-১৪৫ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে।
ভারতের কাছে কয়টি নেত্রা এমকে-১এ আছে?
আগামী তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এমব্রেয়ারকে একটি আনুষ্ঠানিক টেন্ডার (আরএফপি) জারি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিমানগুলোকে ভারতে নেত্রা এমকে-১এ সিস্টেমে আপগ্রেড করা হবে। এই কাজটি ডিআরডিও-র সেন্টার ফর এয়ার বোর্ন সিস্টেমস (সিএবিএস)-কে দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে তিনটি নেত্র এমকে-১ বিমান রয়েছে। নতুন ছয়টি যুক্ত হওয়ার ফলে এই সংখ্যা বেড়ে নয় হবে, যা দেশের আকাশ নজরদারির ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
রাডার সিস্টেমে বড় পরিবর্তন
নেত্রা এমকে-১এ-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে এর রাডার সিস্টেমে। এতে নতুন গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তি, যা পূর্বে ব্যবহৃত গ্যালিয়াম আর্সেনাইড (GaAs) প্রযুক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য, বিমানটিকে ৪৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও শত্রু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম করবে, যা আগে ২৫০-৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কী হবে?
এতে নতুন মিশন সফটওয়্যার এবং উন্নত সেন্সর ফিউশন প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে সিস্টেমটি স্টিলথ ফাইটার, ড্রোন এবং এমনকি হাইপারসনিক অস্ত্রকেও আরও ভালোভাবে ট্র্যাক করতে পারবে। যেহেতু এমব্রেয়ার ইআরজে-১৪৫-এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, তাই কোম্পানিটি ভারতকে পুরনো কিন্তু পরীক্ষিত বাণিজ্যিক বিমান সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে, যেগুলোকে সামরিক চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করা হবে।
বিমানগুলো কখন সরবরাহ করা হবে?
সময়সূচী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। প্রথম বিমানটি ২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হতে পারে। ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। বাকি বিমানগুলো প্রতি ৮-১০ মাস অন্তর সরবরাহ করা হবে।




















