নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত ( Middle East War) ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে৷ এই ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ঘটনা দুর্ঘটনা নাকি হামলার ফল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
ইরাকে সক্রিয় একটি ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা গুলি করে বিমানটি ধ্বংস করেছে। যদিও মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়িং-নির্মিত KC-135 জ্বালানি পরিবাহী সামরিক বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের অংশ ছিল। প্রাথমিকভাবে মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, বিমানটি শত্রু হামলা বা বন্ধুত্বপূর্ণ গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে, এমন প্রমাণ এখনও মেলেনি।
কী এই KC-135 বিমান?
KC-135 মূলত একটি এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, যা আকাশে উড়ন্ত যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে। এর ফলে যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ দূরত্বে অভিযান চালাতে পারে। ১৯৬০ সাল থেকে এই বিমান মার্কিন বিমানবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি চতুর্থ মার্কিন বিমান যা ভূপাতিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে।
আরেকটি KC-135 বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে অবস্থান করা আরও একটি KC-135 বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই বিমানটি নিরাপদে উড়তে সক্ষম হয়।
তুরস্কে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে
শুক্রবার তুরস্কের ইনসিরলিক বিমানঘাঁটির কাছে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
এর আগে ৪ মার্চ এবং ৯ মার্চ একই অঞ্চলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ন্যাটো জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ফরাসি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
ইরাকে একটি ফরাসি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
২০১৫ সাল থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য ওই অঞ্চলে ফরাসি সেনা মোতায়েন রয়েছে। চলমান সংঘাতে এটিই প্রথম ইউরোপীয় সেনার মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর
তেহরান, শিরাজ এবং আহভাজ শহরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় এই বিস্ফোরণগুলি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানের প্রায় ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলেও মার্কিন পক্ষের দাবি।
নেতানিয়াহুর কড়া বার্তা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, খামেনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের প্রভাবের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইসরায়েল প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
একাধিক দেশে ইরানের ড্রোন হামলার অভিযোগ
প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ৫০টিরও বেশি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওমানে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের একটি শিল্প এলাকায় বিস্ফোরণের ধোঁয়া দেখা গেছে।
দুবাইয়ে একটি ড্রোন আটক করা হয়েছে এবং সৌদি আরবও তাদের আকাশসীমায় একাধিক ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।
লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা
লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে তিনটি সেতু ধ্বংস করা হয়েছে, যেগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের রুট হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছিল।




















