দারিদ্রতাকে ডজ করেই বিশ্বসেরা হয়েছেন এই রোনাল্ডো

বিশেষ প্রতিবেদন: দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে তিনি পাঠিয়েছেন বিপক্ষের জালে। তিনি রোনাল্ডো লুইস নাজারিও। সর্বকালের সেরা নাম্বার নাইন। ১৯৭৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রিও ডি জেনেইরোর হতদরিদ্র ঘরে জন্ম হয় ...

By Rana Das

Published:

Follow Us
Ronaldo Luis Nazario

বিশেষ প্রতিবেদন: দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে তিনি পাঠিয়েছেন বিপক্ষের জালে। তিনি রোনাল্ডো লুইস নাজারিও। সর্বকালের সেরা নাম্বার নাইন। ১৯৭৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রিও ডি জেনেইরোর হতদরিদ্র ঘরে জন্ম হয় রোনাল্ডোর। বাবা নেলিও নাজারিও দি লিমা ও মা সোনিয়া দোস সান্তোস বারাতার। জন্মের পর ছেলের নাম রেজিস্ট্রেশন করার টাকাও নেই। সেটা করতে অনেক সময় লেগেছিল। রোনাল্ডোর বয়স তখন ১১। তার বাবা মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পড়াশোনা তো অনেক দূরের কথা, দু-মুঠো খাবার জোগাড় হওয়া দায়। হাত পাতেননি কারও কাছে।

ব্রাজিলে যার কিছু না থাকে তার কাছে ফুটবল থাকে। সেটাই ছিল রোনাল্ডোর কাছে। সেটাকে সম্বল করেই শুরু হয় দারিদ্রতাকে হার মানানোর লড়াই। খেলতে শুরু করেন স্ট্রিট ফুটবল। আর কে না জানে সাম্বার দেশের রোনাল্ডো মানে ‘বল দখল তো গোল দখল’। সেটাই করতে শুরু করেন ব্রাজিলের স্ট্রিট ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলিতে। ধীরে রাস্তা থেকে সুযোগ মেলে স্থানীয় ক্লাবে। শুরু হয় খেপ খেলা।

   

Ronaldo Luis Nazario

স্থানীয় ক্লাব সাও ক্রিস্তোভাও-এ খেলার সময় ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের বিখ্যাত ক্রুইজেরো ক্লাবের নজরে আসেন। জীবনের গতিপথ পালটে যায় এখানেই। ২৫শে মে, ১৯৯৩ সালে মাত্র ১৬ বছর ‘মিনাস গেরিয়াস চ্যাম্পিয়ন্সশিপে’ ক্যালডেন্সের হয়ে পেশাদার ফুটবলে রোনাল্ডোর অভিষেক হয়। প্রথম নজরে আসেন ৭ নভেম্বর ১৯৯৩ সালে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বাহিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে একাই ৫ গোল করে।

বদলে যায় জীবন। ক্রুইজে থেকে ডাচ ক্লাব পিএসভি হয়ে ১৭ মিলিয়ন ডলারে পিএসভি থেকে বার্সেলোনায়। প্রথম সিজনেই করেন ৪৯ ম্যাচে ৪৭ গোল। বার্সার হয়ে জেতেন উয়েফা কাপ,কোপা ডেল রে,সুপার কোপা ডি ইস্পানা। পরে খেলেছেন ইন্টার মিলান , রিয়েল মাদ্রিদের , এসি মিলনের মতো বড় ক্লাবে।

কিন্তু যে কিশোরের দল তাঁর ফুটবল দেখে ভক্ত হয়েছেন সেটা কিন্তু এই ক্লাব ফুটবল নয়। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর করা একের পর এক গোল দেখে। ডি বক্সে তাঁর পায়ে বল মানে গোল।

Ronaldo Luis Nazario

আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব কম ফুটবলারই রোনাল্ডোর মত এতটা সফল হয়েছেন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র তিনজন ফুটবলার দুইটি ভিন্ন টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন, রোনাল্ডো তাদের একজন। ফুটবলে মাত্র একজন খেলোয়াড়ই বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন।

১৯৯৪ সালের মাত্র ১৭ বছর বয়সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সাথে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ফুটবল দলের হয়ে রোনাল্ডোর অভিষেক হয়। ১৯৯৪ সালে আইসলেন্ডের সাথে তিনি ব্রাজিলের হয়ে প্রথম গোল করেন। এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে পেলের পর সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। করেছেন ৯৮ ম্যাচে ৬২টি গোল।

১৯৯৭ কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ৯৯-এর কোপায় হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। ব্রাজিলের তিনটি ইন্টারন্যাশনাল শিরোপা জয়ে জয়ে দুবারই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, দুবার সর্বোচ্চ গোলদাতা, একবার রানার্স আপ, এবং যে তিনটি ফাইনাল খেলেছেন তাঁর প্রত্যেকটিতেই গোল করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের জয়ী দলের সদস্য তিনি। ১৯৯৮ ফাইনাল এবং ২০০২ এ ব্রাজিলের বিশ্ব জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। আর ফাইনালের সেই দুই গোল। অলিভার কান, যিনি অপ্রতিরোধ্য এক দেওয়াল হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যেক স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে , সেই তিনি দু’দুবার হার মানেন রোনাল্ডোর কাছে। চারটে বিশ্বকাপ খেলে তিনবার ফাইনাল, দুবার বিশ্বকাপ জয়। নিজে করেছেন ১৫টা গোল। কার আছে এমন রেকর্ড?

আর এই কারণেই তিনি ফুটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা নাম্বার নাইন। সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার বললেও ভুল হবে না। ১৭ বছর ধরে বিপক্ষের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে যিনি এত গোল করেছেন তাঁকে সেরা স্ট্রাইকার কেন বলা হবে না? দু’টি বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকা, দু’বার ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে পেয়েছেন তিন বার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। ২০১১ সালের ৭ জুন, ব্রাজিলের সাও পাওলোতে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারের সমাপ্তি টানেন তিনি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google