কলকাতা: বাংলার ফুটবলের (Bengal Football) বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু পরিকাঠামোর দিকে তাকালেই হবে না, নজর দিতে হবে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার দিকেও। অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার নিজেদের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছেন মূলত সুযোগ-সুবিধার অভাবে। মাঠে তাঁদের লড়াই, পরিশ্রম আর স্বপ্ন—সবই রয়েছে, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করার মতো পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
প্রতিদিন অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েও অনেক ফুটবলার জানেন না পরের সুযোগটা কবে আসবে। ঠিকমতো প্রশিক্ষণ, পুষ্টিকর খাদ্য, আধুনিক ফিটনেস ব্যবস্থা বা চোট সারানোর চিকিৎসা, এই মৌলিক বিষয়গুলির অভাব তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে। অনেক সময় পরিবার ও আর্থিক চাপে পড়েও খেলোয়াড়দের ফুটবল চালিয়ে যেতে হয়, যা তাঁদের মানসিকভাবেও প্রভাবিত করে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, প্রতিভা থাকলেও সঠিক সময়ে সঠিক মঞ্চ না পাওয়া। ফলে বহু সম্ভাবনাময় ফুটবলার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন অন্ধকারে।
যেমন ধরুন, অমিত টুডু বা সুজল মুন্ডার মতো ফুটবলাররা দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা লিগে ভালো পারফরম্যান্স করে আসছেন। সন্তোষ ট্রফিতেও নিজেদের প্রমাণ দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত মাঠ বা ফিটনেস সাপোর্ট না পাওয়ায় তাঁদের খেলায় ধারাবাহিক উন্নতি করা কঠিন হয়ে উঠছে। একইভাবে সৌগত হাঁসদা বা দিলীপ ওঁরাওয়ের মতো খেলোয়াড়রাও প্রতিভার দিক থেকে কোনও অংশে কম নন। কিন্তু তাঁরা যে পরিবেশে অনুশীলন করেন, তা দেশের অন্যান্য উন্নত ফুটবল রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করলে অনেকটাই পিছিয়ে। অনেক সময়ই দেখা যায়, ভালো মানের জিম, ফিজিও বা রিকভারি সুবিধা না থাকায় ম্যাচের পর সঠিকভাবে ফিট হয়ে ওঠাও কঠিন হয়ে পড়ে। মার্শাল কিস্কু বা বিজয় মুর্মুর মতো তরুণ ফুটবলাররা বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন। কিন্তু গ্রাসরুট স্তরে সঠিক পরিকল্পনার অভাব তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক প্রতিভাই ঠিক সময়ে সঠিক কোচিং বা সুযোগ না পেয়ে হারিয়ে যায়।
এখানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে পরিকাঠামোর ঘাটতি। উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভালো মাঠ এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা থাকলে এই ফুটবলারদের আরও ভালো জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব ছিল। দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে ফুটবল একাডেমি ও যুব উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাংলা এখনও সেই জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। তবে আশার কথা, এই সব প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলার ফুটবলাররা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের চেষ্টায় এবং সীমিত সুযোগ নিয়েই তাঁরা বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সঠিক পরিকাঠামো ও সহযোগিতা পেলে অমিত, সুজল বা সৌগতদের মতো ফুটবলাররাই আবার বাংলার ফুটবলকে আগের গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া মহল।




















