শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC)সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পেল আরও একটি বড় সাফল্য। কুপওয়ারা জেলার কর্নাহ সেক্টরে একটি কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন (সিএএসও)-এর সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই অস্ত্রশস্ত্রজঙ্গিরা লুকিয়ে রেখেছিল। এই অস্ত্র সম্ভবত কাশ্মীর উপত্যকায় ঢোকানোর জন্য রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চারটি চাইনিজ পিস্তল, সাতটি পিস্তল ম্যাগাজিন, তিনটি একে ম্যাগাজিন, ৩০৮ রাউন্ড একে-৪৭ গুলি এবং একটি স্নাইপার সাইট রয়েছে।
এই অভিযান রাতি তারি জঙ্গল এলাকায় চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য এজেন্সির যৌথ দল এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির সময় একটি লুকানো জায়গা থেকে এই অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়। কর্নাহ সেক্টর এলওসি-র খুব কাছে অবস্থিত, যেখানে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রায়ই হয়।
একটি যুগের সমাপ্তি নয়! প্লেব্যাক সম্রাটের বিদায় ঘোষণায় কেন বিচলিত নন শ্রেয়া ঘোষাল?
কুপওয়ারা জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এই ধরনের অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবিরাম লড়াইয়ের ফল। চাইনিজ পিস্তলগুলো প্রায়ই পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করে। এগুলো উপত্যকায় ঢুকিয়ে হামলা চালানোর জন্য রাখা হয়েছিল। স্নাইপার সাইটের উপস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি দূরপাল্লার লক্ষ্যভেদী হামলার জন্য ব্যবহার করা যায়।
নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, এই অস্ত্রগুলো লস্কর-ই-তৈয়বা বা অন্যান্য গোষ্ঠীর হতে পারে, যারা এলওসি পার করে অস্ত্র পাচার করে।এই ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি অংশ। গত কয়েক বছরে কর্নাহ, টাঙ্গধর, হাজিরা এলাকায় একাধিকবার অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও আমরোহি এলাকায় দুটি একে-৪৭ রাইফেল ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়।
কিন্তু এবারের পরিমাণ বড়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে অনুপ্রবেশ কম হলেও লুকানো অস্ত্রের মাধ্যমে জঙ্গিরা পরিকল্পনা করে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে যাতে কোনো স্থানীয় সহায়কের যোগসূত্র পাওয়া যায় কি না। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এসএসপি কুপওয়ারা বলেছেন, “আমরা এলওসি-সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছি। এই সাফল্য সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলার প্রচেষ্টার অংশ।” এই অভিযানের পর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।




















