আদালতের নির্দেশে সদ্য ২৬৯ জন কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই শাসক দল তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ। এই খবর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। সেখানে একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের যোগের কথাও উঠে আসছে।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বেনজির দুর্নীতি হয়েছে৷ ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র৷ সারা রাজ্যজুড়ে মাকড়সার জালের মতো এই দুর্নীতি ছড়িয়ে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই নিয়োগ দুর্নীতিতে শুধুমাত্র পর্ষদের আধিকরিকরাই যুক্ত রয়েছে এমনটা ভাবার প্রয়োজন নেই। এর সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী নেতারা৷ তার কিছুটা আভাসা মিলেছে প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসের মন্তব্যেও। তাই আদালতের কাছে উপেন বিশ্বাসের আর্জি ছিল চন্দন মণ্ডল ওরফে রঞ্জনকে গ্রেফতার করে তদন্ত করুক সিবিআই৷ তাহলে গোটা বিষয়টা প্রকাশ্যে আসবে৷
সূত্রের খবর, এই মামলায় আরও বিপুল সংখ্যক কর্মরত শিক্ষক চাকরি হারাতে পারে। সেই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার। এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সির নাম। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই তিন জনের সুপারিশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হত। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলত৷ ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত একাধিক তথ্য সিবিআইয়ের হাতে এসেছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।
২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তিতে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর পরীক্ষা হয়েছিল৷ ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগে প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৪২ হাজার প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এই তালিকার সিকি শতাংশের বেআইনিভাবে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তাই আগামী দিনে বিপুল সংখ্যক কর্মরত শিক্ষক চাকরি হারাতে পারে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে।