SIR খসড়া তালিকা প্রকাশে লালবাজারের বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুতি

কলকাতা: এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে লালবাজার (Kolkata Police high alert)। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) পক্ষ থেকে ৯…

Lalbazar Directs Police Stations to Act Against Illegal Durga Puja Subscriptions

কলকাতা: এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে থেকেই বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে লালবাজার (Kolkata Police high alert)। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) পক্ষ থেকে ৯ ডিসেম্বর খসড়া প্রকাশের সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতেই কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা শাখা সম্ভাব্য উত্তেজনা রুখতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

Advertisements

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও অভিযোগ, কমিশন নাকি সরকারপক্ষের চাপে কাজ করছে। এর ফলে খসড়া তালিকায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।

   

এই অস্থির পরিস্থিতি মাথায় রেখে লালবাজার শহরের প্রতিটি থানাকে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশ পাঠিয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে আগামী কয়েকদিন জনবহুল এলাকা, অফিসপাড়া, বাজার, গণপরিবহণ জোন এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই গোয়েন্দা শাখাকে সম্ভাব্য ক্ষোভের অঞ্চলগুলির একটি বিশদ তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্ট ৯ ডিসেম্বরের আগেই জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, আগের বহু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নাম নিয়ে ভুল, তালিকা সংশোধন এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলপাড় করেছে রাজ্য রাজনীতি। এবারও সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নাগরিকদের মধ্যে। অনেকের আশঙ্কা খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়লে হঠাৎ ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সেই আশঙ্কাই বাড়তি মাথাব্যথা তৈরি করেছে পুলিশের জন্য।

এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে আমরা আগেই সক্রিয় হতে চাইছি। বিক্ষোভ, ঝামেলা বা উত্তেজনা যদি কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় তৈরি হয়, তা যেন মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সেই প্রস্তুতিই নেওয়া হচ্ছে।”

এই কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাস, কলেজ-ইউনিভার্সিটি অঞ্চল এবং বাজার এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি থানাকে মোবাইল ভ্যান টহল, নাইট প্যাট্রোল এবং সংবেদনশীল এলাকায় স্থায়ী পিকেটিং বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি ওসিকে দিনশেষে নিরাপত্তা পরিস্থিতির রিপোর্ট লালবাজারে পাঠাতে হবে।

লালবাজার শুধুমাত্র কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কারণ তালিকা প্রকাশের প্রভাব পার্শ্ববর্তী জেলাতেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের ধারণা, যেখানে বিরোধী দল শক্তিশালী, সেসব অঞ্চলে ক্ষোভের ঘটনা বেশি দেখা দিতে পারে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের কিছু সংবেদনশীল এলাকায় ড্রোন নজরদারি এবং হাই-রেজোলিউশন সিসিটিভি মনিটরিং শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তালিকা প্রকাশের দিনে ‘মাইক্রো মনিটরিং ইউনিট’ কাজ করবে, যা বিশেষভাবে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিকে লক্ষ্য রাখবে।

এসআইআর খসড়া প্রকাশের আগেই কলকাতা কার্যত সুরক্ষা বলয়ে ঢেকে ফেলতে চাইছে লালবাজার। আইনশৃঙ্খলা যাতে স্থিতিশীল থাকে এবং কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেই লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতার মোডে রয়েছে কলকাতা পুলিশ।

Advertisements